ব্যুরো নিউজ, ৩০ জুন ২০২৬ঃ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি (Indus Water Treaty) নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ এবার এক নজিরবিহীন মোড় নিয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুতে দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক ঠান্ডা লড়াইয়ের মধ্যেই জলবণ্টন নিয়ে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক ভারতকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জলভাগে হাত দেওয়ার চেষ্টা হলে সংশ্লিষ্ট মহলের ‘হাত কেটে ফেলা হবে’।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগামে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারত সরকার সিন্ধু জলচুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত বা ‘অচল’ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। নয়াদিল্লির অভিযোগ, এই হামলার পিছনে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গিরা জড়িত। ভারতের সাফ কথা, এক হাতে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস ছড়ানো এবং অন্য হাতে জলচুক্তির সুবিধা নেওয়া একসঙ্গে চলতে পারে না। ভারতের এই অনড় অবস্থানের পর থেকেই ইসলামাবাদে উদ্বেগ বাড়ছে।
মুসাদিক মালিক পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারারকে পাশে নিয়ে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী যেন একটা জলের কল নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি বলছেন, পাকিস্তানে এক ফোঁটা জলও যেতে দেবেন না। কিন্তু আমরাও স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, যারা আমাদের জলের ভাগে হাত দিতে আসবে, আমরা তাদের হাত কেটে দেব।”
এদিকে, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেছেন, এই আন্তর্জাতিক চুক্তি ভারত একতরফাভাবে বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না এবং জল নিয়ে পাকিস্তানের এই লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক মহলেরও প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরও এর আগে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, জল তাদের ‘লাইফলাইন’ এবং ‘রেড লাইন’। এমনকি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফও হুমকি দিয়েছেন যে, জলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে পাকিস্তানের সামনে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা ছাড়া আর কোনও পথ থাকবে না।
পাল্টা জবাবে ভারত অবশ্য তার অবস্থানে অনড়। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের অধিবেশনে ভারতের প্রতিনিধি অনুপমা সিং পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় বিঁধে বলেন, “১৯৬০ সালে সই হওয়া একটি চুক্তিকে চিরস্থায়ী অধিকার বলে গণ্য করা যায় না। সময়ের সাথে বাস্তব পরিস্থিতি বদলেছে।” ভারতের স্পষ্ট বার্তা, পাকিস্তান আগে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সামলাক এবং সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ করুক, তারপর যেন সহযোগিতার আশা রাখে। সব মিলিয়ে, সিন্ধু নদের জল নিয়ে দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের এই বাগযুদ্ধ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিকে তপ্ত করে তুলেছে।








