সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটেয় তৈরি অতিথিশালা, ১৪ বছরেও পর্যটকশূন্য! কারণ কী?

সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটেয় ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি অতিথিশালা ১৪ বছরেও পর্যটকশূন্য। কেন এই অব্যবস্থা? জানুন বিস্তারিত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে অবস্থিত বিশ্ববরেণ্য চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক ভিটে। এই ঐতিহাসিক স্থানটির পাশেই প্রায় এক দশক আগে ৭০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি অতিথিশালা নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, গত ১৪ বছরে সেখানে একজনও পর্যটক রাত্রিযাপন করেননি। এই অব্যবস্থার কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এ১৮৬৩ সালের ১২ মে এই মসুয়া গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রযুক্তিবিদ, শিশুসাহিত্যিক ও শিল্পী উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। তাঁর পৈতৃক ভিটেটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকলেও, বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব দপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে এবং প্রতিদিন বহু পর্যটক এটি দেখতে আসেন। কটিয়াদীতে ভালো মানের আবাসিক হোটেলের অভাবে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিয়ে সমস্যা হত। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই ২০১১ সালে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন রায়চৌধুরী ভিটার পাশে অতিথিশালা নির্মাণের কাজ শুরু করে, যা ২০১২ সালে ঘটা করে উদ্বোধন হয়। দোতলা এই অতিথিশালাটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সহ তৈরি করা হলেও, এর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রচারের অভাবে এটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়ে আছে। যেখানে পর্যটকদের থাকার সুবিধার জন্য এটি তৈরি হয়েছিল, সেখানেই কেউ পা রাখছেন না। ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন একটি স্থানের পাশে এমন একটি পরিকাঠামো অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে এই স্থানটির অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, অতিথিশালাটি পর্যটকশূন্য থাকায় স্থানীয় অর্থনীতিও বঞ্চিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা নাকি অন্য কোনো কারণ, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সত্যজিৎ রায়ের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানটির প্রতি আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা।