মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের ইঙ্গিত, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন! ভারতে কি কমবে জ্বালানির দাম?

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় পতন। ভারতে কি কমবে জ্বালানির মূল্য? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই স্বস্তি নাও মিলতে পারে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩ আগস্ট ২০২৬ঃ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার আবহে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংঘাত প্রশমনের ইঙ্গিতের পরই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেল। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে তেলের দামে। রবিবার রাতেই মার্কিন ক্রুড অয়েলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপিছু ৮০.৭৯ ডলারে নেমে আসে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও একই হারে কমে দাঁড়ায় ব্যারেলপিছু ৮৩.৮৭ ডলারে। আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এই অস্থিরতার সূচনা হয়েছিল ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথে তেল পরিবহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

এর জেরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে যায় এবং দাম দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করে, যা ব্যারেলপিছু ১০০ ডলারের গণ্ডিও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করলেও তার সুফল ভারতীয় গ্রাহকরা সঙ্গে সঙ্গে পাবেন, এমনটা মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের খুচরো দাম শুধু আন্তর্জাতিক বাজারের উপর নির্ভর করে না। অপরিশোধিত তেলের আন্তর্জাতিক মূল্য ছাড়াও ডলার-রুপির বিনিময় হার, তেল শোধনের ব্যয়, পরিবহণ খরচ এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর, এই সবকটি বিষয় মিলিয়েই চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলেও ভারতীয় বাজারে তার প্রভাব পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে সেই স্বস্তি কবে পৌঁছবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।