ব্যুরো নিউজ, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের প্রাক্কালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের ছায়া যখন স্পষ্ট, তখন এই বৈঠককে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ‘ধুরন্ধর’ কূটনৈতিক চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে খবর, বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শুরুর আগে মোদি পুতিনকে প্রখ্যাত তামিল কবির একটি বই উপহার দেন, যা দুই দেশের সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের প্রতীক। সাম্প্রতিক অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল একপেশে শুল্কযুদ্ধই শুরু করেননি, পাশাপাশি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা নিয়ে ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে দিল্লি মস্কোর সঙ্গে বড়সড় জ্বালানি চুক্তি নিয়ে কথা বলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের আবহে ভারত দীর্ঘদিনের সহযোগী রাশিয়ার উপরই জ্বালানি সুরক্ষার জন্য ভরসা রাখছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে আগ্রহী রাশিয়া ও ভারত। এই বৈঠক একদিকে যেমন ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে, তেমনই ব্রিকস জোটের মধ্যে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একপেশে নীতির বিরুদ্ধে ভারতের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই বৈঠক বিশ্ব মঞ্চে ভারতের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, যা বহু দেশের কাছে অনুপ্রেরণা হতে পারে।








