এসসিও সম্মেলনে মোদির ইরান ও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক, আমেরিকাকে ‘তৃতীয় অক্ষের’ বার্তা দিল্লির

এসসিও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির ইরান ও রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা, আমেরিকাকে 'তৃতীয় অক্ষের' বার্তা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩১ আগস্ট ২০২৬: কিরঘিস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেসকিয়ান এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ববৈঠক করেছেন। এই বৈঠকগুলি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর গভীর প্রভাব রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা-সহ একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের এই কৌশলগত আলোচনাকে বিশেষজ্ঞরা কার্যত আমেরিকাকে একটি ‘তৃতীয় অক্ষ’ শক্তি গঠনের বার্তা হিসেবে দেখছেন। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, যেখানে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্বাধীন বিদেশনীতি অনুসরণ করে আসছে এবং এই বৈঠকগুলি সেই নীতিরই প্রতিফলন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের মধ্যে এই বৈঠকগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্র প্রসারিত করা এবং বিশ্বব্যাপী ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করাই এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য।

মোদি সরকার বরাবরই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার চেষ্টা করে এসেছে। বিশকেকের এই বৈঠকগুলি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ, যা বিশ্ব মঞ্চে ভারতের প্রভাব আরও বাড়াতে সাহায্য করবে। এই আলোচনাগুলি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই মজবুত করবে না, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথও প্রশস্ত করবে। এর মাধ্যমে ভারত তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে বিশ্বশক্তির ভারসাম্য রক্ষায় অবদান রাখতে চাইছে।