ব্যুরো নিউজ, ১২ আগস্ট ২০২৬: সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের লাগাতার বিক্ষোভ, স্লোগান ও ওয়াকআউটের জেরে স্বাভাবিক কাজকর্ম বারবার ব্যাহত হলেও, মোদী সরকার ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়েছে। গত ১২ই আগস্ট, ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, লোকসভায় মাত্র ১৫ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট কাজ হয়েছে, যেখানে রাজ্যসভায় ২৪ ঘণ্টা ২১ মিনিট কাজ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের একটি বড় অংশই নষ্ট হয়েছে দুই কক্ষেই। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অধিকাংশ বিলই বিরোধীদের হইচইয়ের মধ্যে বিতর্ক ছাড়াই পাশ করানো হয়েছে।
এমনকি, মাত্র ৩৬ মিনিটে সাতটি বিল পাশ করানোর নজিরও রয়েছে, যা গড়ে প্রতি বিলের জন্য পাঁচ মিনিটের কাছাকাছি সময়। সাংসদদের সংশোধনী প্রস্তাব থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত বিল পাশ হয়েছে। বিরোধীদের আন্দোলনের মূল কারণ ছিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দিল্লি ছাত্র বিক্ষোভ। প্রথম দিকে স্লোগান ও প্রতিবাদ চললেও, পরে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার বিল পাশ করিয়ে নেয়। এরপর বিরোধী শিবির ওয়াকআউটকে হাতিয়ার করে।
এই অধিবেশনে সরকারের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো পাবলিক এগজামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল পাশ। এই বিল নিয়ে লোকসভায় প্রায় ১১ ঘণ্টা এবং রাজ্যসভায় ৭ ঘণ্টা ১৪ মিনিট আলোচনা হয়েছে, যা অন্যান্য বিলের তুলনায় ব্যতিক্রমী। তবে, সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খেয়েছে প্রশ্নোত্তর পর্ব। লাগাতার হইচইয়ের কারণে সাংসদদের প্রশ্ন করার সুযোগ কার্যত বন্ধই থেকেছে। বিগত কয়েকটি অধিবেশনের পরিসংখ্যানও একই প্রবণতা দেখাচ্ছে। ২০২৬-এর বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বের মোট সময় ১৫ মিনিটও হয়নি। এই ধারা চলতি বাদল অধিবেশনেও অব্যাহত। একদিকে সরকারের আইন প্রণয়নের কাজ এগিয়েছে, অন্যদিকে সংসদীয় অধিকার ব্যাহত হয়েছে।








