ব্যুরো নিউজ, ২২ মে ২০২৬ঃ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬-কে (NEET) ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনও থামেনি। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে যখন তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক সেই সময় সংসদীয় কমিটির সামনে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র (NTA) বক্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন বিতর্কের মাঝে এনটিএ-র ব্যাখ্যা শুনে বিস্মিত রাজনৈতিক মহল, অভিভাবক ও পড়ুয়ারা।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে এনটিএ দাবি করেছে, ‘গোটা প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনও ঘটনাই ঘটেনি, স্রেফ কিছু প্রশ্ন পরীক্ষার আগে বাইরে চলে এসেছিল!’ সংস্থার এই বক্তব্য সামনে আসতেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ এত বড় ঘটনার পরেও এনটিএ পুরো ঘটনাকে ‘মাস পেপার লিক’ বলতে নারাজ। গত ৩ মে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হওয়া নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার আগেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন চক্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের একাধিক অংশ বাইরে চলে আসার অভিযোগ ওঠে। বহু পরীক্ষার্থী দাবি করেন, পরীক্ষার আগে যে প্রশ্নপত্র ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তার সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়া গেছে। এই দাবির ভিত্তিতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দেশজোড়া বিক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত ১২ মে কেন্দ্র সরকার গোটা পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনার পর এনটিএ-কে তলব করে সংসদের স্থায়ী কমিটি।
সূত্রের দাবি, কমিটির সামনে হাজির হয়ে এনটিএ প্রধান অভিষেক সিং এবং উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশী স্বীকার করেন যে পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। তবে তাঁদের বক্তব্য, ‘সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র ফাঁস’-এর মতো ঘটনা ঘটেনি। কমিটির সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, যদি প্রশ্ন ফাঁস না-ই হয়ে থাকে, তাহলে এত তাড়াতাড়ি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কেন? জবাবে এনটিএ কর্তারা জানান, সংস্থা পরীক্ষা ব্যবস্থায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে। তাঁদের বক্তব্য, প্রশ্নপত্রের অল্প অংশও যদি পরীক্ষার আগে বাইরে পৌঁছে যায়, তাহলে পুরো পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়।








