ব্যুরো নিউজ, ৩১ মে ২০২৬ ; নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহের বিতর্কিত বিদেশনীতি নিয়ে তোলপাড় আন্তর্জাতিক মহল। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিনি একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন যা প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন মোড় দিচ্ছে। বালেন শাহ স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেপাল আর ভারত ও চিনের মাঝে কেবল একটি ‘বাফার স্টেট’ হয়ে থাকবে না। বরং তারা একটি প্রাণবন্ত ও প্রগতিশীল দেশ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চায়।
এই নীতির অংশ হিসেবে বালেন শাহ বিগত কিছুদিন ধরে ভারত, আমেরিকা ও ব্রিটেনের শীর্ষ কূটনীতিকদের থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন। এমনকি তিনি আগামী এক বছর কোনো বিদেশ সফরে না যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেপাল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্বে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সের্জিও গোর এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রির সাথে দেখা করতে অস্বীকার করেছিলেন। এর ফলে বালেন শাহের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে এবার নিজের অনিচ্ছাকে কিছুটা দূরে সরিয়ে রেখে আন্তর্জাতিক দূতদের সাথে দেখা করেন নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতিকদের একটি বড় প্রতিনিধি দলের সাথে কথা বলেন বালেন।
এদিন নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসতে পেরে প্রতিনিধিরা আপ্লুত হলেও, সূত্রের খবর, কূটনীতিকদের কথায় তিনি খুব একটা প্রভাবিত হননি। কূটনীতিকরা বৈঠককে ‘সম্মানজনক’ এবং ‘আকর্ষণীয়’ বলে অভিহিত করেন, যা বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বালেনের প্রথম দীর্ঘ বৈঠক ছিল। নেপালের অর্থনৈতিক দুর্বলতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর এমন কঠোর পররাষ্ট্র নীতির তীব্র সমালোচনা করছেন নেপালি জনগণ। তাঁদের আশঙ্কা, প্রতিবেশী দেশগুলিকে চটিয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্ত আখেরে নেপালেরই ক্ষতি করবে। দেশের অর্থনীতি মজবুত না হওয়ায় এমন পদক্ষেপের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।








