ব্যুরো নিউজ, ২৭ আগস্ট ২০২৬: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal flash flood) নেপথ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ এবং অপরিকল্পিত নির্মাণের মতো একাধিক কারণ দায়ী। ভূবিজ্ঞানী ডঃ সুজীব করের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ভেসে গেছে বহু গ্রাম, প্রাণহানি ঘটেছে অসংখ্য মানুষের। ভূবিজ্ঞানী করের মতে, তীব্র তাপমাত্রা পরিবর্তন এই বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।
তিনি জানান, নেপালে ক’দিন ধরে অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। হঠাৎ করে ১২-১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তারতম্য বরফের চাঁইয়ে ফাটল ধরাতে সাহায্য করে। তিব্বতীয় হিমালয় থেকে নেপালের হিমালয়ের উচ্চতাগত বিপুল তারতম্যের কারণে বরফের স্তূপ দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে ফাটল ধরা বরফের চাঁই হিমবাহ হ্রদে পতিত হয়, যা ‘লেক আউটবার্স্ট’ ঘটায়। এই হ্রদগুলি হিমবাহ গলা জলে তৈরি হয় এবং নুড়ি-পাথর জমে প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করে। বরফের চাঁই পড়লে সেই বাঁধ ভেঙে তীব্র গতিতে জল নেমে আসে, যা হড়পা বানের রূপ নেয়।
ভূবিজ্ঞানী আরও উল্লেখ করেন, ভূমিকম্প সবসময় মূল কারণ না হলেও, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানুষের অপরিকল্পিত কার্যকলাপ, যেমন নদীখাতে ঘিঞ্জি বসতি স্থাপন ও দুর্বল মাটিতে নির্মাণ প্রকল্প, এই ধরনের বিপর্যয়কে আরও ভয়াবহ করে তোলে। নেপালের মাটির ধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এবং শিলা প্রকৃতির দুর্বলতার কারণে বিপুল জলস্রোত সহজেই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাতে সক্ষম। তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো বড় অবকাঠামোগত কাজও মাটির ওপর চাপ সৃষ্টি করে বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।








