ব্যুরো নিউজ, ১৬ জুলাই ২০২৬ : নিউজিল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিস্তীর্ণ এলাকা, যার জেরে জারি করা হয়েছে সুনামি সতর্কতা। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৭.৩। শুক্রবার সকালে এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা স্থানীয় সময় রাত ২.২৭ মিনিটে অনুভূত হয়। কম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বহু মানুষ ঘুম ভেঙে উঠে পড়েন এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (USGS) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল গিসবোর্ন শহর থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ২১ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে, নিউজিল্যান্ডের জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (NEMA) উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সমুদ্রের অস্বাভাবিক ঢেউ দেখা যেতে পারে, যা বিপজ্জনক হতে পারে এবং উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি ঘটাতে পারে। এই সতর্কতা জারি হওয়ার পর থেকেই উপকূলের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। ভূমিকম্পের জেরে এখনও পর্যন্ত কোনও বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কতা কেন্দ্র (PTWC) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে সুনামি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। নিউজিল্যান্ড প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ার’-এর উপর অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রায়শই ভূমিকম্প হয়। এর আগে ২০১১ সালে ক্রাইস্টচার্চে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার জনগণকে শান্ত থাকার এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। জরুরি পরিষেবাগুলি প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।








