পাকিস্তানে ১২৫ বছরের পুরোনো গুরুদ্বার ভাঙা, ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভারতের তীব্র নিন্দা

পাকিস্তানে ১২৫ বছরের পুরোনো গুরুদ্বার ভাঙার ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও ভারতের তীব্র নিন্দা। ফারুকাবাদে ল্যান্ড মাফিয়ার হাতে ধ্বংস ঐতিহ্যবাহী শিখ উপাসনালয়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২ জুলাই ২০২৬ঃ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফারুকাবাদে ১২৫ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক ‘গুরুদ্বার শ্রী গুরু সিংহ সভা সাহেব’ ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ জুন গভীর রাতে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী (ল্যান্ড মাফিয়া) প্রশাসনের কোনও অনুমতি ছাড়াই বুলডোজ়ার এনে রাতারাতি এই প্রাচীন গুরুদ্বারটি গুঁড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় স্থানীয় শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ফারুকাবাদ জুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

শিখ প্রতিনিধিদের অভিযোগ, প্রশাসনের চোখের সামনে এই প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী গুরুদ্বারটি ভাঙা হলেও স্থানীয় প্রশাসন প্রথমে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এই গুরুদ্বারটি ১৮৭৩ সালে শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ‘সিংহ সভা আন্দোলন’-এর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। গত ১ জুলাই, ২০২৬-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানের ফারুকাবাদে ১২৫ বছরের পুরোনো পবিত্র গুরুদুয়ারা শ্রী গুরু সিংহ সভা সাহেব ভেঙে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও নিন্দনীয়।”

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং তাঁদের উপাসনালয়কে লক্ষ্যবস্তু করার এই ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতারই বহিঃপ্রকাশ। ভারতের পক্ষ থেকে অবিলম্বে ঘটনার দ্রুত তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ভেঙে ফেলা অংশটি দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদের মুখে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী রমেশ সিং অরোরা ফারুকাবাদ এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, গুরুদ্বারের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রশাসন দ্রুত পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ শুরু করবে। বর্তমানে ওই গুরুদ্বারের অতিরিক্ত কোনও নির্মাণ বা ভাঙার কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে পুরো চত্বর সিল করে দেওয়া হয়েছে।