বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানি বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে

বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত থেকে পাকিস্তানে পণ্য আমদানি বেড়েছে ৬৯%। তৃতীয় দেশ হয়ে প্রবেশ করছে ৫,৮৭৬ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে সম্ভব?

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৭ অক্টোবর ২০২৬: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও, সাম্প্রতিক তথ্য বলছে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা পাকিস্তানে বেড়েই চলেছে।

২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে পাকিস্তান ভারত থেকে প্রায় ৫,৮৭৬ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেশি। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত থাকা সত্ত্বেও এই বিপুল আমদানি বৃদ্ধি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এই পণ্য পাকিস্তানে পৌঁছাচ্ছে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ের মতো তৃতীয় দেশগুলির মাধ্যমে এই পণ্যগুলি ঢুকছে। সেখানে পণ্যের উৎস পরিবর্তন করে নতুন লেবেল লাগানো হচ্ছে এবং তারপর পাকিস্তানে পুনরায় রপ্তানি করা হচ্ছে। এটি ‘গ্রে-জোন স্ট্র্যাটেজি’ নামে পরিচিত, যা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করে।

পুলওয়ামা হামলার পর ২০১৯ সালে ভারত পাকিস্তানের ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (MFN) মর্যাদা প্রত্যাহার করে। এরপর পহেলগাম হামলার প্রেক্ষিতে ভারত-পাকিস্তান সরাসরি বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। ভারতের স্পষ্ট অবস্থান ছিল, সন্ত্রাস ও বাণিজ্য একসঙ্গে চলতে পারে না। পাকিস্তানও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারতের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্য স্থগিত করে। মূলত ওষুধ, প্লাস্টিক, পেট্রোলিয়াম, রবার, রাসায়নিক, কফি, চা, সবজি, মশলা, দুগ্ধজাত পণ্য এবং শস্য ভারত থেকে পাকিস্তানে আমদানি হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার পরও ভারতীয় পণ্যের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সীমান্ত পেরিয়ে পণ্য আদান-প্রদানের এই অপ্রত্যক্ষ পথটি বেশ সক্রিয় এবং পাকিস্তানের বাজারে ভারতীয় সামগ্রীর গুরুত্ব অপরিসীম।