পুনে খুন: ‘বিয়ে ভাঙতে চেয়েছিলাম, কেতনই রাজি হয়নি!’ পুলিশি জেরায় বিস্ফোরক দাবি সিয়ার

পুনে খুন কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল পুলিশি জেরায় দাবি করেছেন, তিনি কেতনের সঙ্গে বিয়ে ভাঙতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কেতন রাজি হননি। প্রেমিকের সঙ্গে ছক কষে খুনের অভিযোগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৫ জুন ২০২৬ঃ পুনের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড়। লোহাগড় দুর্গের পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে মূল অভিযুক্ত তথা কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল পুলিশি জেরায় বিস্ফোরক দাবি করেছেন। সিয়া তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, কেতনের সঙ্গে এই বিয়েতে তিনি একেবারেই খুশি ছিলেন না এবং নিজেই এনগেজমেন্ট ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিয়ার আপত্তি সত্ত্বেও কেতন নাকি সম্পর্ক ও বিয়ের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে পুলিশের অনুমান ভিন্ন।

তদন্তকারীরা প্রথম থেকেই সন্দেহ করছিলেন যে, চেতন চৌধুরীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের কারণেই সিয়া এই বিয়েটা করতে চাইছিলেন না। এক পুলিশ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সমাজ ও পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে চেতনের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার পথ খোলা ছিল না সিয়ার কাছে। আর সেই কারণেই তিনি কেতনকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ভয়ঙ্কর চক্রান্ত করেন। মৃত কেতনের বাবা বিশাল আগরওয়াল গভীর অনুশোচনায় পুড়ছেন। তিনি জানিয়েছেন, এনগেজমেন্টের পর কেতন ও সিয়া প্রায়ই দেখা করতেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরেই সিয়ার আচরণে তাঁর খটকা লাগতে শুরু করে। কেতন তাঁর বাবার কাছে সিয়ার অতীত খতিয়ে দেখার কথা বলেছিলেন এবং চেতন চৌধুরীর নামও উল্লেখ করেছিলেন।

বিশাল আগরওয়াল আরও জানান, সিয়ার বাবা-মা-ই তড়িঘড়ি বিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দিয়েছিলেন। ১৮ জুন সিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে লোহাগড় দুর্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন কেতন। প্রথমে সিয়া পুলিশকে জানান, ছবি তুলতে গিয়ে হাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে খাদে পড়ে যান কেতন। কিন্তু তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়লে চেতন চৌধুরীর সঙ্গে সিয়ার সম্পর্কের কথা সামনে আসে। জানা গেছে, প্রেমিক চেতন আগেই দুর্গে পৌঁছে গিয়েছিলেন। পরে নির্জন জায়গায় সিয়া ও চেতন মিলে কেতনকে প্রায় ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে দেন। এর আগেও ১৪ জুন সিয়া একই দুর্গে কেতনকে ধাক্কা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, তবে সেবার কেতন প্রাণে বেঁচে যান।