ব্যুরো নিউজ, ২২ জুন ২০২৬ঃ পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি সংকটের আবহে কাতারের রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস প্ল্যান্টে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। রবিবার রাতে ঘটা এই বিস্ফোরণের পর ব্যাপক অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কাতার প্রশাসন সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন গুরুতর জখম হয়েছেন এবং ১৮ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে জোরদার তল্লাশি অভিযান চলছে।
জানা গিয়েছে, মাসখানেক আগে ইরানের হামলার পর এই প্ল্যান্টটি বন্ধ ছিল। সম্প্রতি এটি পুনরায় চালু করার চেষ্টা চলছিল এবং শীঘ্রই এখান থেকে গ্যাস রপ্তানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও জানা না গেলেও, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। রাস লাফান কমপ্লেক্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) সরবরাহ করে। এই প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী LNG সরবরাহে বড়সড় ধাক্কা লেগেছিল। এই দুর্ঘটনার প্রভাব কেবল কাতারেই সীমাবদ্ধ নয়।
কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LNG রপ্তানিকারক দেশ হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে সঙ্কট তৈরি হতে পারে। এর ফলে গ্যাস আমদানি নির্ভর দেশগুলির উপর চাপ বাড়বে। ভারতের জন্যেও এই ঘটনা উদ্বেগের কারণ, কারণ ভারত তার প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ কাতার থেকে আমদানি করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগলে ভারতে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে এবং শিল্প ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়বে। আগের হামলাগুলিতে কাতারের LNG সরবরাহ প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।







