অযোধ্যা রাম মন্দির দান চুরি কাণ্ড: উদ্ধার ৮০ লক্ষ টাকা, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

রাম মন্দির দান চুরি কাণ্ডে বড় সাফল্য! ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত। অযোধ্যা পুলিশের তৎপরতায় স্বস্তি রাম ভক্তদের।

Share:

নিউজ ব্যুরো, ২৭ জুন ২০২৬:  অযোধ্যা রাম মন্দির নির্মাণ তহবিলের দান থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা চুরির ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। মূল অভিযুক্ত অনিল কুমারকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, অনিল কুমার স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অযোধ্যা শাখার ক্যাশিয়ার ছিলেন এবং রাম মন্দির ট্রাস্টের দান করা অর্থ ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন। এই ঘটনায় রাম ভক্তদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে এই চুরির ঘটনা ঘটেছিল।

অভিযোগ, অনিল কুমার ওই সময়ে রাম মন্দির তহবিলে জমা পড়া প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন। এই অর্থ তিনি নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন, যার মধ্যে জমি কেনা এবং বাড়ি তৈরি করার মতো বিষয়গুলিও ছিল। রাম মন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে একটি অডিট চলাকালীন এই আর্থিক গরমিল ধরা পড়ে। এরপরই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অযোধ্যা থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

মামলা দায়ের হওয়ার পর অযোধ্যা পুলিশ এবং উত্তরপ্রদেশ STF যৌথভাবে তদন্ত করে অনিল কুমারকে চিহ্নিত করে। পুলিশ তার বাড়ি এবং অন্যান্য সম্পত্তি থেকে চুরি যাওয়া ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অনিল কুমারকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও ৮ জন দোষীর হদিশ পাওয়া গেছে। রমাশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্লা, করুণেশ পান্ডে, মনীশ যাদব, লাভকুশ মিশ্র, রমাশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব- এই আটজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদের বেশিরভাগই মন্দিরে ভক্তদের দ্বারা দান করা নগদ এবং মূল্যবান জিনিসগুলি গণনা, পরিচালনা এবং পরিবহনের সাথে জড়িত ছিল। এদের মধ্যে কয়েকজন রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্রের সাথে সরাসরি যুক্ত থাকার বলে অভিযোগ উঠায় উভয়েই নৈতিক ভিত্তিতে পদত্যাগ করেছেন।অভিযুক্তদের অযোধ্যার একটি আদালতে পেশ করা হয়েছিল, তারপরে তাদের অযোধ্যা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল, কারণ তাদের ২৯শে জুন সোমবার পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

রাম মন্দির তহবিলের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে ট্রাস্ট এবং প্রশাসন আরও সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই উদ্ধারকার্য প্রমাণ করে যে, অপরাধীরা পার পাবে না।