লালকেল্লা নয়, মন্দিরই ছিল মূল লক্ষ্য! ট্র্যাফিকের জেরে বদল বোমারু নবির ষড়যন্ত্রে, এনআইএ চার্জশিটে চাঞ্চল্য

লালকেল্লা বিস্ফোরণে চাঞ্চল্যকর তথ্য! বোমারু নবীর মূল লক্ষ্য ছিল মন্দির, ট্র্যাফিকের কারণে শেষ মুহূর্তে বদল হয় ষড়যন্ত্রে। এনআইএ চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬:  গত বছর ১০ নভেম্বর লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। এনআইএ-র চার্জশিট অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত পেশায় চিকিৎসক উমর উন নবির আসল লক্ষ্য লালকেল্লা ছিল না, বরং একটি মন্দির উড়িয়ে দেওয়ার ছক কষা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ব্যাপক ট্র্যাফিকের কারণে পরিকল্পনা বদলে লালকেল্লাকে বেছে নেওয়া হয়। এই বিস্ফোরক দাবি দেশের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

গত ১৪ মে দিল্লির আদালতে ৭,৫০০ পাতার সুবিশাল চার্জশিট জমা দেয় এনআইএ। ২৯ আগস্ট সেই চার্জশিট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চার্জশিটে জানানো হয়েছে, উমর উন নবি নিজের ভাড়াবাড়িতে বসেই প্রস্রাব প্রক্রিয়াজাত করে ইউরিয়া সংগ্রহ করতেন। সেই ইউরিয়া দিয়েই শক্তিশালী বোমা তৈরি করা হয়েছিল। তদন্ত চলাকালীন এনআইএ গোয়েন্দারা একটি পেন ড্রাইভ উদ্ধার করেন, যেখানে ইউরিয়া নাইট্রেট দিয়ে বিস্ফোরক তৈরির পদ্ধতি এবং বিকল্প হিসেবে প্রস্রাব থেকে ইউরিয়া আলাদা করার উপায় বিস্তারিত লেখা ছিল।

বিস্ফোরণের আগে প্রায় ১১ দিন হরিয়ানার নুহ এলাকার একটি ভাড়া ঘরে লুকিয়ে ছিল নবি। প্রতিবেশীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নবীর ঘরে প্রস্রাব ভর্তি পলিথিন ব্যাগ রাখা থাকত, যার ফলে বিশ্রী গন্ধ বের হত। এই তথ্যগুলি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক নতুন দিক উন্মোচন করল এবং প্রমাণ করল যে, সন্ত্রাসবাদীরা কতটা অভিনব ও নৃশংস পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে। এনআইএ-র এই তদন্ত রিপোর্ট সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের গভীরতা ও তাদের ছকের জটিলতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেছে।