নিউজ ব্যুরো, ২৭ জুন ২০২৬: পাকিস্তানের প্রাক্তন ক্রিকেটার শোয়েব আখতারের বড় ভাই শহীদ আখতারের শেষকৃত্যে লস্কর-ই-তৈবার (LeT) উপপ্রধান সাইফুল্লাহ কাসুরি এবং অন্যান্য জঙ্গিদের উপস্থিতি ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় কাসুরির মতো কুখ্যাত সন্ত্রাসবাদীর প্রকাশ্য উপস্থিতি পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের প্রতি অব্যাহত সমর্থনকে ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।
গত ২৪ জুন শোয়েব আখতারের বড় ভাই শহীদ আখতার প্রয়াত হন। একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, ২৬/১১ মুম্বাই হামলা এবং পাহেলগাঁও হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ হামলার মূলচক্রী লস্কর-ই-তৈবার একাধিক নেতা শহীদ আখতারের জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। কাসুরি ছাড়াও, লস্করের রাজনৈতিক শাখা পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লীগ (PMML)-এর সভাপতি ইনাম উর রেহমানও শেষকৃত্যে যোগ দেন।
উল্লেখ্য, এই PMML-কে রাষ্ট্রসংঘ কর্তৃক মনোনীত সন্ত্রাসী হাফিজ সাঈদ তার নিষিদ্ধ সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়া (JuD) এবং মিলি মুসলিম লীগ (MML)-এর বিকল্প হিসেবে তৈরি করেছিল, যা ২০২৪ সালের পাকিস্তানি নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। সাইফুল্লাহ কাসুরি তার ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য পরিচিত।
সম্প্রতি পাহেলগাঁও হামলার পর তার একাধিক বিদ্বেষপূর্ণ ভাষণ ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে ২৬/১১-এর মতো সমুদ্রপথে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি, তিনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির গোপন যোগসাজশের কথাও স্বীকার করেছিলেন। ভারত এর প্রতিক্রিয়ায় সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে এবং অপারেশন সিন্দুর চালিয়ে লস্করের সদর দফতরসহ একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে।
এই ঘটনা পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসীদের অবাধ বিচরণ এবং তাদের প্রভাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।







