ব্যুরো নিউজ, ৬ আগস্ট ২০২৬ঃ পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক ফের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন। ২৬ দিনের অনশন ভাঙার সময় তোলা তাঁর ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা রাখা হয়নি। এই ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার উপর থেকে তাঁর আস্থা অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওয়াংচুক বলেন, আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল, তা পরে ভেঙে দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, এই ঘটনার পর শুধু একটি দল নয়, প্রায় সব রাজনৈতিক দলের প্রতিই তাঁর বিশ্বাসে ধাক্কা লেগেছে। নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্ক এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তিনি অনশনে বসেছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে দিল্লি থেকে গুরগাঁওয়ের মেদান্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ২৪ জুলাই গভীর রাতে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে স্যুপ খাইয়ে অনশন ভাঙান।
সোনম জানান, অনশন ভাঙানোর আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তিনি চেয়েছিলেন শুধুমাত্র শাসকদলের মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে অনশন ভাঙানোর ছবি প্রকাশ করা না হোক। তাঁর ইচ্ছা ছিল, বিরোধী দলের প্রতিনিধি এবং ছাত্র সংগঠনের নেতাদের উপস্থিতিতে যৌথভাবে একটি বার্তা প্রকাশ করা হবে। সেই ছবি ও বিবৃতি একসঙ্গে প্রকাশের পরই সংবাদমাধ্যমে তা যাবে, এমনটাই নাকি কথা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সেই শর্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা রাখা হয়নি।
অনশন ভাঙানোর মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ছবি বিভিন্ন সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সম্প্রচার শুরু হয়ে যায়। এই ঘটনাই তাঁকে সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে। আন্দোলন ঘিরে সরকারের সঙ্গে কোনও গোপন সমঝোতা বা ‘মিডনাইট ডিল’-এর অভিযোগও স্পষ্টভাবে খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। ওয়াংচুকের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।








