৯ ব্রিটিশ নাগরিকের মৃত্যু! স্পেনে দাবানলে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রিয়জনেরা, আজও

স্পেনে দাবানলে ব্রিটিশ নাগরিকদের মৃত্যু। তদন্তে রাজনৈতিক বাধা এবং পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের দাবিতে ক্ষোভ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: ভয়াবহ দাবানলে চোখের সামনে শেষ হয়ে গিয়েছিল প্রিয়জনদের জীবন। কিন্তু সেই মর্মান্তিক ঘটনার কয়েক মাস পরেও তাঁদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রয়ে গিয়েছে একাধিক প্রশ্ন। স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলের বেদার (Bédar) গ্রামের দাবানলে প্রাণ হারানো ১৫ জনের মধ্যে ছিলেন ৯ জন ব্রিটিশ নাগরিক। এবার সেই ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ ও প্রকাশ্য তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

চলতি বছরের ৯ জুলাই আলমেরিয়া প্রদেশের বেদার গ্রামে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বহু মানুষ বিপদের মুখে পড়েন। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, আগুনের ভয়াবহতা সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সময়মতো সতর্ক করা হয়নি। বিশেষ করে মোবাইল ফোনে জরুরি বিপর্যয় সতর্কবার্তা কেন পাঠানো হয়নি, তা নিয়ে উঠেছে বড়সড় প্রশ্ন। অনেকের দাবি, আগুন বসতিতে পৌঁছনোর মাত্র কয়েক মিনিট আগে তাঁদের কাছে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ পৌঁছেছিল।

নিহতদের স্বজনদের মধ্যে ডানকান চার্ডের বাবা মাইকেল এবং তাঁর সঙ্গী ক্রিস্টিন এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অন্যদিকে, ড্যানি গিলাম-কির্টন হারিয়েছেন তাঁর বাবা-মা পিট ও ফ্র্যানকে। তাঁদের অভিযোগ, বিপর্যয়ের পরেও প্রশাসন ও পুলিশের কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা মেলেনি। ব্যক্তিগত সামগ্রী ও মৃতদেহ উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

এদিকে, আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্টে বিরোধীদের আনা তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে শাসক পিপলস পার্টি ও অতি-ডানপন্থী ভক্স। তাদের বক্তব্য, চলমান ফৌজদারি তদন্তেই ঘটনার প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে।

কিন্তু স্বজনহারা পরিবারগুলির প্রশ্ন, প্রশাসনের গাফিলতি থাকলে তার দায় কে নেবে? ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সেই উত্তর পেতেই এখন তাঁদের লড়াই।