ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি নিয়ে পাটনা হাই কোর্টের রায়ে শীর্ষ আদালতের ভর্ৎসনা

ধর্ষণের চেষ্টা ও শ্লীলতাহানি নিয়ে পাটনা হাই কোর্টের বিতর্কিত রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারকদের পড়াশোনা নিয়ে প্রশ্ন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৬ জুলাই ২০২৬ : সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি পাটনা হাই কোর্টের একটি বিতর্কিত রায় নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে ভর্ৎসনা করেছে। শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের চেষ্টার পার্থক্য সংক্রান্ত ওই রায়ে শীর্ষ আদালত বিচারকদের সঠিক পড়াশোনা ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। পাটনা হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠতেই সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে হস্তক্ষেপ করে।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের একটি মামলার ভিত্তিতে। সেই মামলায় পাটনা হাই কোর্ট এক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছিল যে, কোনও মহিলার সালোয়ার সরানো বা তাঁর স্তনে হাত দেওয়াকে শ্লীলতাহানি হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে, কিন্তু এটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বলা যাবে না। হাই কোর্টের যুক্তি ছিল, যদি না ধর্ষণের স্পষ্ট উদ্দেশ্য বা শারীরিক সম্পর্কের প্রমাণ থাকে, তবে এটিকে কেবল শ্লীলতাহানি হিসেবেই দেখা উচিত। পাটনা হাই কোর্ট আরও উল্লেখ করে যে, শ্লীলতাহানির ক্ষেত্রে সাজার পরিমাণ কম এবং ধর্ষণের চেষ্টার ক্ষেত্রে শাস্তি অনেক বেশি, তাই দুটির মধ্যে স্পষ্ট ফারাক থাকা জরুরি। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই আইনমহল ও নারী অধিকার কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ জানান। তাঁদের মতে, এই ধরনের রায় নারী সুরক্ষাকে দুর্বল করে এবং অপরাধীদের উৎসাহিত করতে পারে।

সুপ্রিম কোর্ট এই বিতর্কিত রায়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর পরই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে। শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে যে, আজকাল এই ধরনের বিতর্কিত রায় প্রায়শই দেখা যাচ্ছে এবং বিচারপতিরা সম্ভবত সঠিকভাবে আইন ও পূর্ববর্তী রায়গুলি পর্যালোচনা করছেন না। শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থায় নারী সংক্রান্ত অপরাধের সংবেদনশীলতা এবং সঠিক বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।