ভোটের কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ বৈধ, শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে না: হাইকোর্ট

নির্বাচনী ডিউটিতে শিক্ষকদের নিয়োগে শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে না, জানিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ বৈধ বলে রায়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ নভেম্বর ২০২৬: নির্বাচনী কাজে, বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষকদের নিয়োগ করা হলে তা শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘন করে না। সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্ট এক মামলার শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। সাহারানপুরের পাঁচজন সহকারি শিক্ষক তাঁদের নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।

তাঁদের যুক্তি ছিল, এই দায়িত্ব পালনের ফলে তাঁরা শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পাঠদান করতে পারছেন না, যা সংবিধানের ২১এ ধারায় বর্ণিত শিক্ষার অধিকারের পরিপন্থী। তবে বিচারপতি বিনোদ দিওয়াকরের বেঞ্চ এই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালত জানায়, ২০০৯ সালের শিক্ষা অধিকার আইন অনুযায়ী, শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগ করা যেতে পারে। এই আইন শিক্ষকদের অন্য সরকারি কাজে নিয়োগের অনুমতি দেয়, এবং ভোটার তালিকা তৈরির কাজ সেই ব্যতিক্রমের আওতাতেই পড়ে। তাই, ২১এ ধারা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলী উল্লেখ করে করা আবেদনটি ভুল বলে আদালত মনে করে। আদালত আরও উল্লেখ করে যে, ভোটার তালিকা প্রস্তুত ও সংশোধন একটি সার্বভৌম আইনি প্রক্রিয়া, যা নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন,

১৯৫০ অনুযায়ী, এই কাজে নিযুক্ত সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে কাজ করেন। মামলাকারীরা তাঁদের যুক্তির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দাখিল করতে পারেননি যে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁদের শিক্ষাদানে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, হাইকোর্ট শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ বহাল রাখে এবং তাঁদের আবেদন খারিজ করে দেয়।

সম্পর্কিত খবর