কিংবদন্তি পাণ্ডবানি শিল্পী তীজন বাঈ প্রয়াত, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর

কিংবদন্তি পাণ্ডবানি শিল্পী তীজন বাঈ প্রয়াত। রবিবার রায়পুরের এইমস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৫জুলাই ২০২৬ঃ প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি পাণ্ডবানি লোকশিল্পী তীজন বাঈ। রবিবার (৫ জুলাই, ২০২৬) রায়পুরের এইমস হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন ৯১ বছর বয়সী এই শিল্পী। এদিন সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ করে সেখানেই তাঁর জীবনাবসান হয়। তাঁর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ শিল্প ও সংস্কৃতি জগৎ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তীজন বাঈয়ের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর শোকবার্তায় বলেন, “তীজন বাঈয়ের জন্য ছত্তিশগড়ের লোকশিল্প বিশ্বজুড়ে এক বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিল। তাঁর প্রয়াণ শিল্প এবং সংস্কৃতি জগতের এক অপূরণীয় ক্ষতি।” আদিবাসী পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাণ্ডবানিকে পৌঁছে দিয়েছিলেন তীজন বাঈ। তাঁর হাতে তানপুরা নিয়ে ‘কাপালিকা’ রীতিতে মহাভারতের কাহিনি বর্ণনা করার ভঙ্গি ছিল এক কথায় অনবদ্য। এই অনন্য পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি আপামর শ্রোতার মন জয় করে নিয়েছিলেন এবং পাণ্ডবানিকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছিলেন। তাঁর সুরেলা কণ্ঠ এবং শক্তিশালী অভিব্যক্তি মহাভারতের জটিল আখ্যানগুলিকে জীবন্ত করে তুলত।

পাণ্ডবানি হল ছত্তিশগড়ের এক ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্যশৈলী, যেখানে মহাভারতের গল্পগুলি গান ও অভিনয়ের মাধ্যমে পরিবেশন করা হয়। তীজন বাঈ এই শিল্পকে শুধু বাঁচিয়ে রাখেননি, বরং তাকে বিশ্ব দরবারে পরিচিতি দিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া দেশের লোকশিল্প জগতে এক যুগের অবসান ঘটাল। তাঁর অসামান্য অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।