ব্যুরো নিউজ, ৬ জুন ২০২৬ঃ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার এক মাস পেরোতেই বিজেপি বিরোধী শিবিরে প্রবল রাজনৈতিক ঝড়। কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত, তৃণমূলের অন্দরমহলে ভাঙনের সুর স্পষ্ট। লোকসভা ভোটে দলের ভরাডুবির পর তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের একটি বড় অংশ যে ‘বেসুরো’ হয়েছেন, তা দলের প্রথম সারির অনেক নেতাই স্বীকার করছেন। দিল্লিতে আগামী ৮ জুন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের প্রস্তাবিত বৈঠকের আগেই পরিস্থিতি আরও ঘোরালো। এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি ইতিমধ্যেই বৈঠকে অনুপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছে। তেজস্বী যাদবের আরজেডি ও অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিও এখনও সবুজ সঙ্কেত দেয়নি। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কি এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবে?
সূত্রের খবর, বর্তমানে লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে তৃণমূলের ৪১ জন সাংসদের মধ্যে আড়াআড়ি ফাটল ধরার জল্পনা তুঙ্গে। সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে করা পোস্ট সেই গুঞ্জনকে উসকে দিয়েছে, যা নীতি ও শাসনের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়। দলের অন্দরে প্রবল সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে; সাংসদদের গতিবিধি সম্পর্কে খোঁজ নিতে ঘনিষ্ঠ নেতারা ফোন করছেন। সাংসদ জগদীশ বসুনিয়ার ক্ষেত্রে এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
বঙ্গ-বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অবশ্য তৃণমূলের এই পরিস্থিতিকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস কোনও দিনই কোনও রাজনৈতিক দল ছিল না।তৃণমূল এখন অতীত।” তাঁর মতে, এই দল দুর্নীতির নীতিতে চলত। এই টানাপোড়েনের মধ্যে আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়েও বিরোধী জোটের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। সব মিলিয়ে, দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।







