যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যেতেই পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যেতেই পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু। মার্কিন অবরোধ ও ইরানের পাল্টা জবাব, উত্তেজনা তুঙ্গে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য পরিস্থিতি জটিল করেছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩ জুন ২০২৬ঃ যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরই পারস্য উপসাগরে ফের উত্তেজনা বাড়ল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার খবর জানিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের উপর “আত্মরক্ষামূলক” হামলা চালিয়েছে এবং ইরানের নিক্ষেপ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে তাদের হামলা ছিল “মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের পরিকল্পিত আক্রমণের প্রতিক্রিয়া”। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সেন্টকম আরও দাবি করেছে যে, ইরান কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যা ধ্বংস করা হয়েছে। তারা কেশম দ্বীপে একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে। গত ১৩ই এপ্রিল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী ও সেখান থেকে বের হওয়া সমস্ত জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করা শুরু করেছে। এই অবরোধের অংশ হিসেবে তারা বতসোয়ানার পতাকাবাহী একটি তেলের ট্যাঙ্কারকে অকার্যকর করে দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি কংগ্রেসে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে কোনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যুদ্ধ শেষ হয়েছে।” এই ঘটনা পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।