ভাঙল একের পর এক ‘গ্লাস সিলিং’, প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা গভর্নর থেকে আদিবাসী নারী

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতিহাস গড়লেন মহিলারা। বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা জয় ছিনিয়ে এনেছেন, যা প্রগতিশীলতার জয় বলে মনে করা হচ্ছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৬ নভেম্বর ২০২৬: আমেরিকার রাজনীতিতে কি শুরু হল নতুন এক অধ্যায়? ২০২৬ সালের মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে একের পর এক ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়ে নজির গড়লেন মহিলারা। দীর্ঘদিনের জাতিগত ও লিঙ্গবৈষম্যের বাধা পেরিয়ে এবার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে জায়গা করে নিলেন একাধিক নারী প্রার্থী। কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা থেকে লাতিনা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি—বিভিন্ন পরিচয়ের মহিলাদের এই সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে প্রতিনিধিত্বের নতুন ছবি তুলে ধরেছে।

এই নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা জর্জিয়ার গভর্নর পদে কিশা ল্যান্স বটমসের (Keisha Lance Bottoms) জয়। তিনি আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা হিসেবে কোনও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, টেক্সাসে জিনা হিনোজোসা (Gina Hinojosa) প্রথম লাতিনা গভর্নর হওয়ার নজির গড়েছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় পর টেক্সাসের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাবর্তনেও তাঁর জয় গুরুত্বপূর্ণ।

নিউ মেক্সিকোয় ডেব হালান্ড (Deb Haaland) প্রথম আদিবাসী মহিলা হিসেবে কোনও মার্কিন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি জো বাইডেনের প্রশাসনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। ওহাইয়োতেও ইতিহাস তৈরি করেছেন অ্যামি অ্যাক্টন (Amy Acton)। তিনি রাজ্যটির প্রথম মহিলা গভর্নর হতে চলেছেন।

এখানেই শেষ নয়। মিনেসোটায় অ্যামি ক্লোবুচারও প্রথম মহিলা গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দক্ষিণ ক্যারোলিনায় অ্যানি অ্যান্ড্রুজের জয়ও উল্লেখযোগ্য, কারণ তিনিই রাজ্যটির প্রথম মহিলা মার্কিন সিনেটর হতে চলেছেন।

এই ফলাফল শুধু কয়েকজন প্রার্থীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মার্কিন রাজনীতিতে নারী নেতৃত্ব ও বহুত্ববাদী প্রতিনিধিত্বের প্রসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এতদিন যে পদগুলিতে মহিলাদের উপস্থিতি ছিল সীমিত, সেখানে এবার তৈরি হল নতুন ইতিহাস।