বাবার স্বপ্ন পূরণ! বিশ্ব কুস্তিতে ভারতের প্রথম মহিলাSoনার পদক জয়ী মনীষা ভানওয়ালা

বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের ২৯ বছর বয়সি কুস্তিগীর মনীষা ভানওয়ালা সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন। পিতৃবিয়োগের শোক কাটিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৩০ অক্টোবর ২০২৬: দীর্ঘ ৩৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব কুস্তি চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন ভারতের ২৯ বছর বয়সি কুস্তিগীর মনীষা ভানওয়ালা। কাজাখস্তানের আস্তানায় অনুষ্ঠিত ৫৯ কেজি বিভাগের ফাইনালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগী অ্যাবিগেইল এলিজাবেথ নটকে ৮-৬ ব্যবধানে হারিয়ে এই বিরল গৌরব অর্জন করেন। ২০১০ সালে সুশীল কুমারের পর মনীষা হলেন মাত্র দ্বিতীয় ভারতীয় কুস্তিগীর— এবং দেশের প্রথম মহিলা— যিনি বিশ্ব কুস্তি প্রতিযোগিতায় ভারতের জন্য স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনলেন।

তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক অনমনীয় লড়াই, পিতৃশোক কাটিয়ে ওঠার যন্ত্রণা এবং বাবাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষার রূপকথা। ২০২২ সালে যখন মনীষা এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে মঙ্গোলিয়া রওনা হন, ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়টি নেমে আসে। যাত্রা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি খবর পান যে তাঁর বাবা সুরেশ ভানওয়ালা আর নেই। বাবাই ছোটবেলায় মনীষাকে প্রথম কুস্তির আখড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং জীবনের প্রতিটা পদে মেয়ের সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিলেন। সেই সময়ে ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশন (WFI) তাঁকে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে বাড়ি ফিরে আসার পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিল। শোক গ্রাস করেছে তাঁকে, কিন্তু প্রতিযোগীতার ময়দান ছাড়েননি মনীষা। কারণ, তাঁর মনে পড়েছিল বাবার সেই শেষ উপদেশ— “যে কাজটি শুরু করবে, তা যেন শেষ করে তবেই ময়দান ছেড়ো।” বাবার সেই কথাকেই শিরোধার্য করে নিয়েছিলেন মনীষা। এই জয় শুধু মনীষার একার নয়, এটি ভারতের কুস্তি জগতের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। পিতৃবিয়োগের শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে এমন সাফল্য অর্জন নিঃসন্দেহে কুস্তিগীর মনীষা ভানওয়ালার অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং লড়াইয়ের মানসিকতার পরিচয় বহন করে।