বিশ্বকাপে ফকল্যান্ড বিতর্ক উসকে রাজনৈতিক বার্তা আর্জেন্টিনার, তদন্ত চেয়ে ফিফাকে চিঠি ব্রিটেনের

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ড বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন। ব্রিটেনের তদন্তের দাবি, ফিফার পদক্ষেপের অপেক্ষায়।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৬ জুলাই ২০২৬: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ম্যাচ শেষের পর লিওনেল মেসি ও তাঁর সতীর্থরা ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা একটি ব্যানার হাতে মাঠে নেমে আসেন।

এই ঘটনাকে ব্রিটেনের পক্ষ থেকে ‘একনায়কের ক্ষমতার আস্ফালন’ বলে তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। ব্রিটিশ সরকার গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে ফিফার কাছে। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা ‘মালভিনাস’ নামে অভিহিত করে এবং দীর্ঘদিন ধরেই এই দ্বীপগুলির মালিকানা দাবি করে আসছে। যদিও ১৮৩৩ সাল থেকে এটি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পরও ফকল্যান্ডের জনগণ গণভোটের মাধ্যমে ব্রিটেনের অধীনেই থাকার পক্ষে রায় দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার এই আচরণকে ফকল্যান্ডবাসীর জনমতকে উপেক্ষা করার সামিল বলে মনে করা হচ্ছে। ম্যাচের সময় গ্যালারিতেও একই ধরনের পোস্টার ও স্লোগান দেখা যায়। ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব পিটার কাইল এই ঘটনাকে ‘একেবারেই অনুপযুক্ত’ আখ্যা দিয়ে ফিফার কাছে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তিনি মনে করেন, খেলার মাঠে এমন রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন খেলার মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। অতীতে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শনের জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার পার্ক জং উ নির্বাসিত হয়েছিলেন। তাই এবার ফিফা আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে ফুটবল মহলে জল্পনা তুঙ্গে। বিশ্বকাপ মঞ্চে এমন রাজনৈতিক বিতর্ক খেলার স্পিরিটকে ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। এই ঘটনার পর ফিফার কড়া পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে ফুটবল বিশ্ব।