এক বছর সোনা কিনবেন না: মোদীর ৭২ বিলিয়ন ডলারের ফরেন এক্সচেঞ্জ লজিক

প্রধানমন্ত্রী মোদী এক বছর সোনা না কেনার আবেদন করেছেন। জানুন কেন এই সিদ্ধান্ত এবং কীভাবে এটি ভারতের ৭২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা ভান্ডার বাঁচাতে সাহায্য করবে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১১ই মে ২০২৬ঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি দেশবাসীর কাছে এক অভূতপূর্ব আবেদন জানিয়েছেন – আগামী এক বছর যেন কেউ সোনা না কেনেন। ১০ মে ২০২৬-এ হায়দ্রাবাদের এক জনসভায় তিনি বলেন, শুধু প্রাণ দেওয়াই দেশপ্রেম নয়, বরং কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল জীবনযাপনও দেশপ্রেমের অংশ। কিন্তু হঠাৎ কেন এই  আবেদন? এর পেছনে রয়েছে ভারতের বিশাল বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির চাপ।

ইরান-মার্কিন যুদ্ধ, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং টাকার দুর্বলতা – এই সব বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে মোদীর এই আবেদন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা আমদানিকারক দেশ, যেখানে বার্ষিক প্রায় ৭০০-৮০০ টন সোনা আমদানি হয়। দেশের মোট সোনার চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আসে, যার মূল্য পরিশোধ করা হয় ডলারে।

ট্রেডিং ইকোনমিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার বর্তমানে প্রায় ৬৯০.৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা ফেব্রুয়ারিতে ৭২৮ বিলিয়ন ডলার থাকলেও এপ্রিলের মধ্যে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) অনুমান, ২০২৬ সালে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতি (Current Account Deficit) ৮৪.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে ভারতের সোনা আমদানি ৭২ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ বেশি। যদি ভারতীয়রা এক বছর সোনা কেনা কমিয়ে দেন এবং আমদানিতে ৩০-৪০ শতাংশ হ্রাস ঘটে, তাহলে ২০-২৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। এমনকি ৫০ শতাংশ হ্রাস পেলে ৩৬ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় সম্ভব, যা চলতি হিসাবের ঘাটতির প্রায় অর্ধেক। সহজ কথায়, সোনা কেনা কমালে দেশের বাইরে ডলারের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে, যা ভারতের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। এই আবেদন দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।