আলিপুর অগ্নিকাণ্ডে ষড়যন্ত্রের ছায়া, ‘৪ তলা থেকে ৯ তলায় আগুন ছড়াল কীভাবে?’, প্রশ্ন দমকলমন্ত্রীর

আলিপুরের সরকারি দফতরে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ষড়যন্ত্রের ছায়া দেখছেন দমকলমন্ত্রী। ৪ তলা থেকে ৯ তলায় আগুন ছড়ানোর রহস্য, ভস্মীভূত ইভিএম। তদন্তে ফরেন্সিক দল।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১২ জুন ২০২৬ :  আলিপুরের নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ বিল্ডিংয়ে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে এবার বড়সড় ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব দানা বাঁধছে। দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “৪ তলা থেকে আগুন ৯ তলায় গেল কীভাবে?” তাঁর মতে, মাঝের তলাগুলি অক্ষত রেখে সরাসরি ওপরের তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়া অত্যন্ত রহস্যজনক।

জানা গিয়েছে, ভবনের শীর্ষ তলায় মজুত প্রায় ৪ হাজার ইভিএম আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে জেলা পরিষদের অফিস এবং অতিরিক্ত জেলাশাসকের অফিসের বিভিন্ন ফ্লোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে থাকা দুই তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান ও শওকত মোল্লার অফিসসহ একাধিক কর্মাধ্যক্ষের দফতরও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। তদন্তকারীদের সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে মাঝের ছয়, সাত এবং আট তলা অক্ষত থাকার বিষয়টি। প্রাথমিক অনুমান, সিঁড়ি বেয়েই আগুন ওপরের ফ্লোরগুলিতে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে জলের উৎসের অভাব এবং ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ঘটনার দিন কর্তব্যরত এক দমকল আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যিনি প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা ঘোষণা করেছিলেন। পাশাপাশি, অফিস টাইমের আগে উপস্থিত চার কর্মীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হয়েছে, যদিও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।

অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ উদঘাটনে বৃহস্পতিবার ফরেন্সিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে নমুনা সংগ্রহ করতে পারেনি। শুক্রবার পুনরায় ফরেন্সিক দল নমুনা সংগ্রহ করবে এবং তাদের রিপোর্ট জমা পড়ার পর পুলিশ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।