আবাস যোজনার টাকা না ফেরালে এফআইআর, কোচবিহারে প্রশাসনিক বৈঠকে কড়া বার্তা মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আবাস যোজনায় অনিয়মের অভিযোগে যাঁদের টাকা ফেরতের জন্য দু’বার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে এবার এফআইআর করার পথে হাঁটবে প্রশাসন। কোচবিহারে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনই কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং এগ্রিকালচার মার্কেটিং দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে আবাস যোজনা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

রবিবার কোচবিহারের রবীন্দ্র ভবনে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার জেলার পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে অনুষ্ঠিত হয় ‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট আউটকাম রিভিউ মিটিং’। বৈঠকে আবাস যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের কাজের গতি, অর্থ বরাদ্দের ব্যবহার, প্রশাসনিক সমস্যা এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছনোর বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হয়।

 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, আবাস যোজনায় যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং টাকা ফেরতের জন্য ইতিমধ্যেই দু’বার নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের বিষয়টি এবার গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। নোটিশ পাওয়ার পরেও টাকা ফেরত না দিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে বলে জানান তিনি।

 

আবাস যোজনা গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি আবাসন প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য উপভোক্তাদের পাকা বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ফলে প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছয় এবং সরকারি অর্থের অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য বলে বৈঠকে গুরুত্ব পায়।

 

উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ

 

এদিনের বৈঠকে আবাস যোজনা ছাড়াও ভিবিজি রামজি প্রকল্প, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং গ্রামীণ এলাকার পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে কোথায় সমস্যা রয়েছে, কোন এলাকায় কাজের গতি কম এবং কীভাবে দ্রুত কাজ শেষ করা যায়, সেই বিষয়গুলি নিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মন্ত্রী।

 

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই জেলার গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সরকারি প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খরচ করা, উন্নয়নমূলক কাজের গুণমান বজায় রাখা এবং প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

 

মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, গ্রামীণ উন্নয়নের কাজে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। একইসঙ্গে যেসব প্রকল্পে অনিয়ম বা অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলির ক্ষেত্রেও নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেন তিনি।

 

উপস্থিত ছিলেন একাধিক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধি

 

রবীন্দ্র ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকদের পাশাপাশি দুই জেলার প্রশাসনিক আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং খাদ্য ও সরবরাহ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক।

 

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী বিশাল লামা, নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী মালতি রাভা রায়, সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা-সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

 

দুই জেলার গ্রামীণ উন্নয়নের বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে আগামী দিনে কাজের গতি বাড়ানো এবং প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আবাস যোজনায় টাকা ফেরত না দিলে এফআইআরের হুঁশিয়ারি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ—দুই জেলার এই প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মন্ত্রীর বার্তায় সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেল।