বর্ধমানে ‘গুপ্তচর’ দিয়ে তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তির খোঁজ, কোটি টাকার তোলা চাওয়ার অভিযোগ বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে

বর্ধমানে তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তির খোঁজে ‘গুপ্তচর’ নিয়োগের অভিযোগ বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে। তথ্য জেনে কোটি টাকার তোলা চাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১২ আগস্ট ২০২৬: রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরও তোলাবাজির সংস্কৃতি অব্যাহত রয়েছে, বরং কিছু ক্ষেত্রে তার মাত্রা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে পূর্ব বর্ধমানে। সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে, যেখানে বিজেপির একাংশের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তির খোঁজ নিতে ‘গুপ্তচর’ নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ, এই তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা চাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা ও সম্পন্ন ব্যবসায়ীদের জমি, বাড়ি, ব্যবসা এবং আর্থিক সামর্থ্যের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরপর সেই তথ্য ব্যবহার করে ফোন করে তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ বা প্রশাসনের কাছে জানানোর বদলে, ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হচ্ছে। যার সম্পত্তি যত বেশি, তার কাছে তোলা চাওয়ার অঙ্কও তত বড়। এমনকি, তৃণমূল আমলে কার বিরুদ্ধে কত টাকা তোলাবাজির অভিযোগ ছিল, সেটিকেও টাকা আদায়ের মাপকাঠি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। একের পর এক এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিজেপির জেলা সংগঠনের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। দলের পুরনো কর্মীদের একাংশ প্রকাশ্যে তোলাবাজি ও রাজনৈতিক জরিমানার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় আর্থিক ও রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে এলাকার অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দখলের লড়াই। কোথাও ব্যবসায়ী ও সম্পন্ন ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায়, কোথাও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের জরিমানা, আবার কোথাও জমি ও চাষের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি মন্তেশ্বরে বিজেপি বিধায়ক সৈকত পাঁজাকে ঘিরে দলের কর্মীদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। বর্ধমানের শ্যামলাল এলাকায় বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এক মহিলা নেত্রী-সহ কয়েকজন আহত হন। জামালপুর ও কালনাতেও বারবার দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডুর অভিযোগ, তাঁদের বহু কর্মী এখনও ঘরছাড়া এবং তাঁদের জমিতে চাষ করতে দেওয়া হচ্ছে না। বিজেপি নেতা তথা গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র জানিয়েছেন, অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই দল রেয়াত করবে না এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।