রাজ্যের অর্থনীতিতে ‘মার্শাল প্ল্যান’ অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তর, কীভাবে ভঙ্গুর দশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলা?

রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের 'মার্শাল প্ল্যান'। কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলা? জানুন বিস্তারিত।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১২ জুন ২০২৬ : রাজ্যের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবার ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর পথে হাঁটতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ইউরোপের ধাঁচে এক সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিধ্বস্ত ইউরোপের দেশগুলিকে স্বাবলম্বী করতে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব জর্জ সি মার্শাল যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, সেই মডেল অনুসরণ করেই বাংলার আর্থিক হাল ফেরাতে চান তিনি।

গত ১৫ বছরে শিল্প ও কর্মসংস্থানে ঘাটতি, রাজস্ব সংকোচন এবং বিপুল ঋণের বোঝায় রাজ্যের আর্থিক পরিকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া বিভিন্ন ভাতার কারণেও রাজ্যের উপর আর্থিক দায়ভার বেড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো নতুন সরকারের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের প্রস্তাবিত ‘মার্শাল প্ল্যান’ মূলত তিনটি ধাপে কাজ করবে। প্রথমত, ব্যয়ের তুলনায় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি করা। সরকারি কর্মীদের বেতন, পেনশন ও বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে বিপুল খরচ কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো প্রকল্পগুলি নিয়েও নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয়ত, সুদের অঙ্কে লাগাম টানা। বর্তমানে মোট রাজস্বের ৪২ শতাংশেরও বেশি শুধুমাত্র সুদ মেটাতেই খরচ হয়ে যায়, যা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল বোঝা কমানো অত্যন্ত জরুরি। তৃতীয়ত, রাজ্যে বিনিয়োগের অঙ্ক আরও বাড়ানো। বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প যেমন ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা সর্বস্তরে বাস্তবায়িত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।

স্বপনবাবু মনে করেন, ডবল ইঞ্জিন সরকার এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে এবং পাঞ্জাব, কেরলের ধাঁচে রাজ্যের জিডিপি বৃদ্ধিকে অন্যতম রাস্তা বলে মনে করছেন। তবে এই বিশাল আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলা কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার।