ব্যুরো নিউজ, ৬ জুন ২০২৬ঃ অনেক দিন পর বাংলার রেল নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল। শনিবার নবান্ন সভাগৃহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের মধ্যে এক দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলার জন্য ১০টি মেগা ঘোষণা করা হয়েছে, যা রাজ্যের রেল পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতার কারণে বাংলায় রেল প্রকল্পগুলির গতি শ্লথ ছিল। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে ৪০টিরও বেশি আটকে থাকা প্রকল্পের জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) দিয়েছে।
রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেন, বাংলার রেলের সামগ্রিক রূপান্তরে কেন্দ্র ১ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। এর মধ্যে চলতি ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরেই ১৪,০২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ইউপিএ জমানার ৪,৩৮০ কোটি টাকার (২০০৯-২০১৩) তুলনায় অনেক বেশি। রাজ্যে ১০২টি ‘অমৃত ভারত’ স্টেশন তৈরি করা হবে, যার মধ্যে ১০টির কাজ ইতিমধ্যেই শেষ। যানজট কমাতে ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, মুর্শিদাবাদের করিমপুর, জলঙ্গী, পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড় এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগর ও সুন্দরবনের মতো এলাকাগুলি এবার রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে। সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম হল দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন পরিষেবা, যা বারাণসী ও পাটনা হয়ে মাত্র ৬ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গে পৌঁছাবে। কলকাতা মেট্রোর জন্য আগামী ৫ বছরে ৬০টি নতুন অত্যাধুনিক রেক আসবে এবং ডানকুনি থেকে গুজরাতের সুরত পর্যন্ত একটি ডেডিকেটেড পণ্যবাহী করিডর তৈরি হবে। জেলাশাসকদের জমি জট মেটাতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, যা প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নে সাহায্য করবে।








