ব্যুরো নিউজ, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে করোনা মহামারী চলাকালীন সরকারি টেলি-মেডিসিন প্রকল্পের জন্য কেনা কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম লোপাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যের অন্তত ৬৪টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে এই সমস্ত মূল্যবান সামগ্রী উধাও হয়ে গিয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতরের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে প্রকাশ। এই ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্য ভবন অবিলম্বে সব জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের (CMOH) স্থানীয় থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে।
একইসঙ্গে, সরঞ্জাম দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন থেকে ক্ষতিপূরণ কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, করোনাকালে গ্রামীণ মানুষকে ঘরে বসেই মেডিক্যাল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরিষেবা দিতে ‘স্বাস্থ্য ইঙ্গিত’ নামের একটি বিশেষ টেলি-মেডিসিন প্রকল্প চালু হয়েছিল। কেন্দ্রীয় অনুদানে পরিচালিত ‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন’-এর অর্থ সহায়তায় হাজার হাজার কম্পিউটার, ইন্টারনেট সংযোগ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেই সব পরিকাঠামোর আর অস্তিত্বই নেই। কোথাও মনিটর উধাও, কোথাও ইউপিএস (UPS) থাকলেও ভেতর থেকে ব্যাটারি ও এমসিবি (MCB) গায়েব করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি সরঞ্জাম কার্যত লুঠ হয়ে গিয়েছে।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই অনিয়মের জাল ছড়িয়ে রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, হাওড়া, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান এবং বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার অধীনস্থ বিভিন্ন গ্রামীণ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার স্বাস্থ্য খাতে যে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করেছিল, তার একটি বড় অংশই এই প্রকল্পের পরিকাঠামো নির্মাণে খরচ হয়েছিল। এই অপচয় ও তছরুপের ঘটনায় কড়া জবাবদিহি চেয়েছে প্রশাসন। দায়ীদের বেতন থেকে ক্ষতিপূরণ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।








