ব্যুরো নিউজ, ২৮ মে ২০২৬ঃ বিধানসভা ভোটে দলের বিপর্যয়ের নৈতিক দায় স্বীকার করে ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী-সহ ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। হুগলি জেলার চন্দননগর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই পুরসভায় তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই এই গণইস্তফা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র তোলপাড় শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর হুগলি জেলায় কোনও পুরসভায় এই প্রথম গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটল।
ভদ্রেশ্বর পুরসভার মোট ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে গত পুরনির্বাচনে তৃণমূল ২০টি আসনে জয়ী হয়েছিল। তবে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে প্রায় ১৪টি ওয়ার্ডেই তৃণমূল পিছিয়ে ছিল, যার জেরে চন্দননগর বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন ১৩ হাজার ভোটে পরাজিত হন। এই পরাজয়ের দায়ভার কাঁধে নিয়েই চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে। যদিও ৮ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেও, পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে বোর্ড চালাতে অসুবিধা হবে না বলে তৃণমূল সূত্রে খবর।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে গণইস্তফার ঘটনা সামনে আসছে। এর আগে ভাটপাড়া পুরসভার বেশিরভাগ কাউন্সিলর, ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ৮ জন কাউন্সিলর এবং কাঁথি পুরসভার ১৪ জন কাউন্সিলর একইরকমভাবে পদত্যাগ করেছিলেন। কাঁথি পুরসভার ক্ষেত্রে ১৪ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগের পর বোর্ড ভেঙে দিয়ে প্রশাসকের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনাগুলি রাজ্যের পুর পরিষেবা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, বিভিন্ন পুরসভায় ওঠা এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত হবে।








