বর্ধমান মেডিক্যালে চাঁদার জুলুমবাজি: চিকিৎসক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে পড়ুয়াদের উপর চাপ!

বর্ধমান মেডিক্যালে বার্ষিক ফেস্টের নামে প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের থেকে ৫,৫০০ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ। চিকিৎসক সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে জুলুমবাজির অভিযোগ অস্বীকার NMO-র।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

অভিযোগ উঠেছে, প্রথম বর্ষের এমবিবিএস পড়ুয়াদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, প্রতিটি পড়ুয়ার কাছে ৫,৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল মিডকস অর্গানাইজেশনের (NMO) নাম ব্যবহার করে পড়ুয়াদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পড়ুয়া এই অভিযোগ তুলে ধরে লিখেছেন যে, বইপত্র ও পড়াশোনার সামগ্রী কিনতে ইতিমধ্যেই প্রচুর খরচ হয়েছে। উপরন্তু, হস্টেলের ঘর না পেয়ে অনেক পড়ুয়াকে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ফেস্টের জন্য এত টাকা দেওয়া অনেকের পক্ষেই কঠিন হয়ে পড়ছে। ওই পড়ুয়ার দাবি, NMO-র নাম ব্যবহার করে তাঁদের উপর চাঁদা দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে।

যদিও ফেস্ট কমিটির সদস্যরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, চাঁদা আদায়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছামূলক এবং কোনও জোরজুলুম করা হচ্ছে না। তবে প্রথম বর্ষের একাধিক পড়ুয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের উপর পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ন্যাশনাল মিডকস অর্গানাইজেশনের রাজ্য সম্পাদক জানিয়েছেন, তাঁদের সংগঠন একটি অরাজনৈতিক সংস্থা। সারা বছর তাঁদের নিজস্ব কর্মসূচির তালিকা রয়েছে। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে আয়োজিত নবীনবরণ বা বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে চাঁদা তোলার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। NMO-র নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পড়ুয়া মহলে ক্ষোভ বাড়ছে এবং দ্রুত এর সমাধান দাবি করা হচ্ছে।