পদত্যাগের পরই মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক চন্দ্রিমা: ‘বাজেট নিয়ে আলোচনাই হত না!’

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদত্যাগের পরই মমতার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। অভিযোগ, বাজেট নিয়ে তাঁর সঙ্গে কখনও আলোচনা করা হয়নি। আনুগত্য প্রশ্নের মুখে আসায় মুখ খুললেন।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৪ জুলাই ২০২৬ঃ তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরই বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, রাজ্যের বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে কোনওদিনই তাঁকে কার্যত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এমনকি বাজেটে কী রয়েছে, তাও তিনি জানতে পারতেন একেবারে শেষ মুহূর্তে। এই অভিযোগের তির সরাসরি গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। শনিবার সকালে দলের রাজ্য সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। পদত্যাগের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চন্দ্রিমা আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, অর্থ দফতরের দায়িত্বে থাকলেও বাজেট তৈরির বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কখনও কোনও আলোচনা করা হত না। বাজেট পেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি জানতে পারতেন, বাজেটে কী কী প্রস্তাব রয়েছে এবং কী কী ঘোষণা করা হবে। তাঁর বক্তব্য, “আমি বাজেট পেশ করতাম ঠিকই, কিন্তু তার আগে জানতামই না ভেতরে কী আছে। কয়েক ঘণ্টা আগে আমাকে জানানো হত।” সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, এতদিন তিনি কেন এই বিষয়ে চুপ ছিলেন? উত্তরে চন্দ্রিমা জানান, দায়িত্বে থাকার সময় তিনি গোপনীয়তা রক্ষার শপথ নিয়েছিলেন। সেই কারণেই আগে কিছু বলেননি।

তবে এখন যখন তাঁর আনুগত্য এবং সততা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, তখন আর চুপ থাকার প্রয়োজন দেখছেন না বলেই জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তৃণমূল ভবনের ঘটনা এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন কলের পর তিনি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেন। মমতার অভিযোগ ছিল, চন্দ্রিমা নাকি নিজেই তৃণমূল ভবন ঋতব্রত শিবিরের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই অভিযোগের পরই তিনি সব দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনা তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে এনেছে এবং আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।