ব্যুরো নিউজ, ৬ জুন ২০২৬ঃ আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে সনাতনীদের এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবারের এই মঞ্চ থেকে তিনি নিজেকে একজন সনাতনী ধর্মাবলম্বী হিসেবে তুলে ধরে বলেন, “আমি এখানে কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং একজন সনাতনী ধর্ম মানা মানুষ হিসেবে এসেছি।” তবে এই আধ্যাত্মিক মঞ্চ থেকেই তিনি পূর্বতন সরকারের ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ এবং আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি নিয়ে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান।
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কেবল ভোট ব্যাংকের লোভে বিগত সরকারের আমলে প্রকৃত উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। পরিকাঠামো বা বিকাশের চেয়েও ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ প্রাধান্য পেয়েছিল, যা গত কয়েক বছরে নগ্নভাবে সামনে এসেছে। তিনি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) বিরোধী আন্দোলনের সময় মুর্শিদাবাদ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়া ব্যাপক হিংসা ও অশান্তির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, পূর্বতন জমানায় ভোটব্যাংক সুরক্ষিত রাখতে সীমান্ত এলাকার অধিকাংশ জায়গা সম্পূর্ণ খোলা রাখা হয়েছিল এবং সনাতনীদের ধর্মীয় উৎসব পালনে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হত।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, চাইলেও সব কিছু সরাসরি বলতে পারি না। কিন্তু এটুকু আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে পারি— মৌসম বদল রাহা হ্যায়। আগে আরও অনেক কিছু হবে, আপনারা শুধু আপনাদের এই ভাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখুন।” তিনি আরও বলেন, “বাংলার বুকে যত সমাজবিরোধী উপাদান রয়েছে, তাদের সবাইকে খতম করার দায়িত্ব আপনারা আমাকে দিয়েছেন। আমি ইতিমধ্যে রাজ্যের সব গুন্ডামি বন্ধ করে দিয়েছি। বাকি যে দু-চারজন এখনও অবশিষ্ট আছে, তাদেরও দ্রুত নির্মূল করা হবে।” এই হুঁশিয়ারি রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।








