ব্যুরো নিউজ, ১লা জুলাই ২০২৬ঃ ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ বাঁধার মাপজোক কাণ্ডে ফেঁসে গিয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানার তলব এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। ব্যক্তিগত কাজ ও সময় চাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে তাঁরা বুধবার হাজিরা দেননি। তবে এই একই মামলায় বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ থানায় হাজিরা দিতে পারেন বলে সূত্র মারফত জানা গেছে। এই ঘটনায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে মঞ্চ বাঁধার জন্য ফিতে হাতে মাপজোক করতে দেখা যায় কুণাল ঘোষ, দোলা সেন ও বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। অভিযোগ ওঠে, তাঁদের এই কার্যকলাপের ফলে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং নিত্যযাত্রীদের অসুবিধা হয়। এর পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয় এবং বুধবার তাঁদের তলব করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, দোলা সেন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় হাজিরা দেওয়ার জন্য আরও কিছুদিন সময় চেয়েছেন।
কুণাল ঘোষের হাজিরা নিয়ে এখনও নিশ্চিত খবর না থাকলেও, তিনি থানায় যেতে পারেন বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, ২১ জুলাইয়ের সভার অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দিয়েছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির। কিন্তু ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আগামী দুমাস ১৬৩ ধারা লাগু থাকায় সভার অনুমতি মেলেনি। এই মাপজোক কাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, “আবেদন করেই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ফিতে নিয়ে চলে যাবেন, মামার বাড়ি নাকি? কে অধিকার দিয়েছে আপনাকে? পারমিশন চেয়েছেন, কোথায় দেব বলে দেব।” এই মন্তব্যগুলি ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং শাসক দলের অন্দরেও এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে।








