বিদ্যুৎ দপ্তরের চরম গাফিলতি! ধূপগুড়িতে ছিঁড়ে যাওয়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহশিক্ষকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ধূপগুড়িতে বিদ্যুৎ দপ্তরের গাফিলতিতে ছিঁড়ে যাওয়া তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গৃহশিক্ষকের মৃত্যু। স্থানীয়দের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ সত্ত্বেও কাজ হয়নি। ক্ষতিপূরণের আশ্বাস।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বিদ্যুৎ দপ্তরের চরম গাফিলতির জেরে অকালে প্রাণ হারালেন এক গৃহশিক্ষক। ধূপগুড়ি মাগুরমারি ২ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের চৌরঙ্গী এলাকার বাসিন্দা রাজেন্দ্র মাহাতো (৩৬) টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক ভাবে মারা যান। স্থানীয়দের অভিযোগ, লিখিত অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ দফতর বিপজ্জনক তার মেরামত করেনি, যার ফলস্বরূপ এই দুর্ঘটনা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাজেন্দ্র ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিউশনি করিয়ে তিনি কোনো রকমে সংসার চালাতেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে আনুমানিক ১০:৩০ নাগাদ টিউশন পড়িয়ে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন রাজেন্দ্র। মুষলধারে বৃষ্টির মাঝেই রাস্তার উপর ছিঁড়ে পড়েছিল বৈদ্যুতিক তার। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা হয়নি। এর মধ্যেই বৃষ্টির মধ্যে সেই ছেঁড়া তারে জড়িয়ে পড়েন রাজেন্দ্র। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে দেখেন, তার জড়ানো অবস্থায় রাজেন্দ্রর নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে। তড়িঘড়ি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যুৎ দপ্তরের চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনার প্রায় ঘন্টাখানেক পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রতিনিধি ও ধূপগুড়ি থানার আইসি ঘটনাস্থলে এসে নিহত যুবকের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এবং আইনগত প্রক্রিয়া মেনে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, এলাকার সমস্ত বিপজ্জনক বিদ্যুৎ লাইন দ্রুত মেরামতের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। বর্তমানে এলাকা শান্ত থাকলেও বিদ্যুৎ দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি।