ব্যুরো নিউজ, ২১ জুন ২০২৬ঃ দিঘায় ফের জলক্রীড়া দুর্ঘটনায় এক পর্যটকের মৃত্যুতে সমুদ্রতটে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ২০ জুন, ২০২৬ তারিখে দিঘা মোহানা থানা এলাকার সি-হক ঘোলাঘাটে স্পিড বোটের ধাক্কায় পূর্ব বর্ধমানের যুবক শেখ বাপনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন, অনির্দিষ্টকালের জন্য দিঘার সমুদ্রে সমস্ত ওয়াটার স্পোর্টস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের কাছে দিঘা এক জনপ্রিয় গন্তব্য হলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দুর্ঘটনার সংখ্যাও। এর আগেও ২০২২ সালে মাঝ সমুদ্রে স্পিড বোট বিকল হয়ে পর্যটকরা আটকে পড়েছিলেন এবং ২০২৩ সালের ২৬ অক্টোবর স্পিড বোটের ধাক্কায় এক পর্যটক গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বারবার এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা।
অভিযোগ, বেসরকারি সংস্থাগুলির মাধ্যমে পরিচালিত এই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসগুলির বৈধ কাগজপত্র ও সুরক্ষার মান যাচাইয়ে যথেষ্ট কড়াকড়ি নেই। স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনার পর কিছুদিন প্রশাসন তৎপর থাকলেও, পরে পরিস্থিতি আবার ‘যে কে সেই’ হয়ে যায়। তারা ভিড় এড়িয়ে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে এই রাইডগুলি চালানোর দাবি জানিয়েছেন। কাঁথির মহকুমা শাসক ধুমল প্রতীক অশোক এবং পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা ঘটনার তদন্ত শুরু ও স্পিড বোটটি সিজ করার কথা জানিয়েছেন।
বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডলও অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন কুমার সংস্থার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জলক্রীড়া বন্ধ রাখার কথা বলেছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে স্থায়ী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে সকলে।







