দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স! রাজ্যের ৩৫০ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিটের নির্দেশ দিলীপ ঘোষের

পঞ্চায়েত দুর্নীতি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজ্যে ৩৫০ গ্রাম পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিটের নির্দেশ, আবাস যোজনার দুর্নীতিতেও কড়া নজর।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৯ আগস্ট ২০২৬ : রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও কৃষি বিপণন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বিগত সরকারের আমলে পঞ্চায়েত স্তরে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন। যারা অবৈধভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি সাফ জানিয়েছেন। এই দুর্নীতি খুঁজে বের করতে রাজ্যের মোট ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩৫০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে বিশেষ অডিট চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী। শনিবার খড়গপুর গ্রামীণ থানার বিদ্যাসাগর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, গত কয়েক বছরে গ্রাম পঞ্চায়েতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে ক্যাগের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও দুর্নীতির সঠিক পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়, তবে এই ব্যাপক অনিয়মের তদন্তে যথেষ্ট সময় লাগবে। তার আগে পঞ্চায়েতগুলির সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ পরিচালনার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে কিছু কাজের টেন্ডারও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অনেক রাস্তা ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই তৈরি হয়েছে, সেগুলিরও রিভিউ চলছে। যদি দুর্নীতি প্রমাণিত হয়, তবে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

আবাস যোজনায় দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। প্রায় ১২,৫০০ অযোগ্য ব্যক্তি আবাস যোজনার টাকা নিয়েছেন, যার মধ্যে হাজার জন ইতিমধ্যেই টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকিদের কাছে টাকা ফেরতের জন্য নোটিস পাঠানো হচ্ছে। দিলীপ ঘোষের এই নির্দেশ রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, দুর্নীতিতে কোনো রকম আপস করা হবে না এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।