নেপালে আইএসআইয়ের ‘মিশন বাংলা’, পাক চর রানার জেরায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

পাক চর রানা রউফের জেরায় ফাঁস হল আইএসআইয়ের নেপাল ষড়যন্ত্র। ২০২০ সালে তবলিঘি জামাতের আড়ালে বাংলা-সহ ভারতে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরির ছক কষেছিল পাক গোয়েন্দা সংস্থা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১৮ আগস্ট ২০২৬: পাক গুপ্তচর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ২০২০ সালে নেপালে তবলিঘি জামাতের একটি আন্তর্জাতিক সমাবেশে আইএসআই (ISI) ভারতের বিরুদ্ধে এক গোপন ষড়যন্ত্রের নীল নকশা তৈরি করেছিল। এই ‘মিশন বাংলা’র লক্ষ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গুপ্তচর নেটওয়ার্ক তৈরি করা এবং অস্থিরতা সৃষ্টি করা।

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নেপালের সাপতারি জেলার বোদবারসাইন এলাকায় ‘আলামি তবলিঘি ইজতেমা’র আয়োজন করা হয়। এই বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তান থেকে কয়েকজন আইএসআই কর্তা নেপালে আসেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতীয় এবং নেপালে কর্মরত কিছু পাকিস্তানি নাগরিক, যাদের ভারত ও বাংলাদেশে অবাধ যাতায়াত রয়েছে, তাদের গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ করা। সম্প্রতি ধৃত রানা রউফ খালিদকে জেরা করে এই ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে, নেপালে আইএসআই কর্তারা এজেন্টদের সঙ্গে বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কীভাবে গুপ্তচর সেল তৈরি করা হবে, সেই বিষয়ে আলোচনা করেন।

বিশেষত, সীমান্ত সংলগ্ন রাজ্যগুলিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করাই ছিল তাদের প্রধান উদ্দেশ্য। দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে এই বিশাল পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও সতর্ক হয়েছে এবং এই নেটওয়ার্কের গভীরে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। রানার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও অনেককে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।