পদত্যাগের পর বিস্ফোরক কাকলি: ‘সংসদে বসে কাঁচা খিস্তি, নারীবিদ্বেষীদের আধিপত্য মানব না’

তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পদত্যাগ। 'সংসদে বসে কাঁচা খিস্তি, নারীবিদ্বেষীদের আধিপত্য মানব না' বলে বিস্ফোরক মন্তব্য। আইপ্যাক ও নতুনদের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৪ মে ২০২৬ঃ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের মহাবিস্ফোরণ। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ হারানোর পর এবার বারাসত সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতির পদ থেকেও ইস্তফা দিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে পাঠানো তাঁর ইস্তফাপত্র ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি কালীঘাটের বৈঠকের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে মুখ্য সচেতকের পদ থেকে সরিয়ে সেই দায়িত্বে ফেরানো হয়েছিল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই রদবদলের পরেই পদত্যাগ করে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকলি।

পদত্যাগের পর এক বিস্ফোরক সাংবাদিক বৈঠকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে বলেন, “পার্লামেন্টে বসে কাঁচা খিস্তি করছে… এই সব নারীবিদ্বেষী মানুষদের আধিপত্য মানতে পারছি না।” সরাসরি নাম না করলেও, তাঁর এই মন্তব্য দলেরই এক সাংসদের দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তৃণমূল সংসদীয় দলে মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবাদ বা সংঘাত নতুন নয়। মহুয়া সম্পর্কে কল্যাণ যে ধরণের শব্দ বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করেছেন, তা নিয়ে অতীতেও তীব্র বিতর্ক হয়েছে। ২৩ মে তারিখে দেওয়া নিজের ইস্তফাপত্রে বারাসতের সাংসদ পরাজয়ের ‘নৈতিক দায়’ নেওয়ার কথা বললেও, পরোক্ষে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক-কে নজিরবিহীন আক্রমণ শানিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে চিঠিতে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, “নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন, আপনি বিগত দিনের মতো নিষ্ঠাবান পুরনো কর্মীদের নিয়ে কাজ করলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে মনে হয়। ভুঁইফোঁড় সংস্থা দিয়ে কঠিন কাজ হয় বলে মনে হয় না।” এছাড়াও রাজ্যে সাম্প্রতিক অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কাকলি। এই পদত্যাগ ও বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আরও প্রকট করে তুলল।