তারাতলা কাণ্ডে আটক ফিরহাদ ঘনিষ্ঠ ববির ‘কালী’, পুরসভায় দুর্নীতির অভিযোগ

তারাতলা গুদাম ধস ও পুরসভার দুর্নীতির মামলায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় আটক। মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, আরও তথ্য সামনে আসবে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৬ জুন ২০২৬ : কলকাতা: তারাতলা গুদাম ধস কাণ্ডে এবার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করল পুলিশ। ২০২৪ সালের একটি তোলাবাজির মামলায় তাঁর নাম জড়ানোয় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে কলকাতা পুরসভার নিয়োগ, কোটি কোটি টাকার টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া এবং বেআইনি বহুতলের নকশা পাশ করানোর নেপথ্যে এই কালীচরণের বড় ভূমিকা ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই ‘কালী’ সিন্ডিকেট নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তিনি ফাইল উঁচিয়ে দাবি করেন, কলকাতা পুরসভায় কালী না বললে কোনও প্ল্যান পাশ হয় না। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়। কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিরহাদ হাকিমের অত্যন্ত প্রভাবশালী ওএসডি (অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি) হিসেবেই সকলে চিনতেন। প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত চতুর ও মেধাবী অফিসার হিসেবে পরিচিত কালীচরণ ২০০৩ সালে ডব্লিউবিসিএস পরীক্ষায় দ্বিতীয় এবং ২০০৬ সালে ডব্লিউবিপিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ২০১০ সাল নাগাদ তিনি কলকাতা পুরসভায় ডেপুটেশনে আসেন এবং ফিরহাদ হাকিমের আপ্ত সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। ২০১৮ সালে ফিরহাদ মেয়র হওয়ার পর কালীচরণকে তাঁর ওএসডি পদে নিয়ে আসা হয়। এরপর দীর্ঘ বছর পুরসভার অলিন্দে তাঁর কথাই ছিল শেষ কথা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছেন, তারাতলা গুদাম ধসের মামলার জল যতদূর গড়াবে, এই কালীচরণকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বিগত পুরবোর্ডের সমস্ত বেআইনি প্ল্যান পাসের কেলেঙ্কারি একে একে সামনে আসবে। কাউকে ছাড়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই আটক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।