কান্দি দোহালিয়া কালীমন্দিরে মায়ের আবির্ভাব উৎসবে ভক্তদের ঢল, ঐতিহ্য ও আড়ম্বরে পালিত বিশেষ তিথি

মুর্শিদাবাদের কান্দি দোহালিয়া কালীমন্দিরে মায়ের বাৎসরিক আবির্ভাব উৎসবে ভক্তদের ঢল। প্রাচীন এই মন্দিরে তন্ত্রমতে পুজো ও মেলা ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ২৫ অক্টোবর ২০২৬: মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি শহরের অদূরে অবস্থিত শতাব্দী প্রাচীন দোহালিয়া কালীমন্দিরে মা দক্ষিণাকালীর বাৎসরিক আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ভক্তদের ঢল নেমেছে। দুর্গাপূজার পরবর্তী চতুর্দশী তিথিতে প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহ্য ও রাজকীয় আড়ম্বরে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ উৎসব। মন্দির সংলগ্ন চত্বরে শুরু হয়েছে কয়েক দিনব্যাপী জমজমাট মেলা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের উপস্থিতি ও ঢাকের বোলে রবিবাসরীয় সকাল থেকেই গমগম করছে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ। কথিত আছে, প্রায় এক হাজার বছর পূর্বে সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন ও লক্ষণ সেনের আমলে গভীর জঙ্গলে ঘেরা এই এলাকায় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী এখানে তপস্যা করার সময় মায়ের ব্যাঘ্র আকৃতির দক্ষিণাকালী শিলামূর্তির দর্শন পান। মন্দিরের পুরোহিত প্রকাশ চ্যাটার্জী জানান, ভোর পাঁচটায় মায়ের মঙ্গল আরতির মাধ্যমে দিনের সূচনা হয়। এরপর প্রায় একশো জন ঢাকিকে নিয়ে মায়ের বিশেষ আরতি ও পূজা সম্পন্ন হয়। হোম ও বলিদানের পর সাধারণ ভক্তদের জন্য দর্শনের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। অ্যাস্ট্রোলজার অমিত চ্যাটার্জী বলেন, দুর্গাপূজার পরের এই চতুর্দশীতেই মায়ের আবির্ভাব উৎসব বা বাৎসরিক পুজো ধরা হয়। এ দিন মাকে বিশেষ রাজবেশে সাজানো হয় এবং রাজবাড়ি থেকে চিরাচরিত পূজার উপাচার আসে। সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে হোম-যজ্ঞ, বলিদান ও অন্ন মহোৎসবের আয়োজন করা হয়। মন্দিরের অন্যতম সেবাইত গিরিশ পান্না জানান, প্রায় দশ হাজার মানুষের জন্য মহাভোগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং আলোয় মুড়ে ফেলা হয়েছে পুরো চত্বর। উৎসব উপলক্ষে হাজির পুণ্যার্থীদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ।