দামোদরের ঘূর্ণিপাকে তলিয়ে মৃত ৩ পড়ুয়া, কুলটির ‘ডেঞ্জার জোন’ ঘিরে ফেলছে পুলিশ

কুলটির দামোদরে ঘূর্ণিপাকে তলিয়ে মৃত ৩ স্কুল পড়ুয়া। দিসেরগড় ঘাট 'ডেঞ্জার জোন' হিসেবে চিহ্নিত। পুলিশ এলাকা ঘেরার পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ১লা জুলাই ২০২৬ঃ দামোদরের প্রাণঘাতী ঘূর্ণিপাকে তলিয়ে গেল তিন স্কুল পড়ুয়া। সোমবার দুপুরে কুলটির দিসেরগড় মাজার সংলগ্ন দামোদর ঘাটে স্নান করতে নেমে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয় দশম শ্রেণির তিন ছাত্র। মৃতদের নাম তাবরেজ আলম (১৫), মহম্মদ নুরউদ্দিন (১৭) ও আয়ান আখতার (১৬)। স্থানীয়দের তৎপরতায় তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, স্কুলে ঢুকতে না দেওয়ায় তারা একসঙ্গে ক্রিকেট খেলে দামোদরে স্নান করতে যায় এবং সেখানেই ঘটে এই বিপত্তি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিসেরগড় মাজার লাগোয়া এই ঘাটটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। গত কয়েক বছরে এখানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বছর দেড়েক আগেও একই পরিবারের তিন পুণ্যার্থী তলিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ-প্রশাসন আগেই এই এলাকাকে ‘ডেঞ্জার জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বোর্ড লাগিয়েছিল। স্থানীয়দের দাবি, দামোদর, বরাকর ও ক্ষুদে— এই তিন নদের মিলনস্থল হওয়ায় এখানে প্রবল ঘূর্ণিপাক সৃষ্টি হয়। এছাড়াও অবৈধ বালি খননের ফলে নদীর তলদেশে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, যা বিপদ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। হাঁটু-সমান জল ভেবে নামলেই ঘূর্ণিপাকে পড়ে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনা এড়াতে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে বিপজ্জনক অংশে নিষেধাজ্ঞা বোর্ড বসানোর পাশাপাশি এলাকাটি ঘেরা হচ্ছে। মাজার কমিটিকে মাইক দিয়ে পুণ্যার্থীদের নিয়মিত সতর্ক করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখানো হয়, পরে পুলিশের আশ্বাসে তা তুলে নেওয়া হয়।