বারুইপুর থেকে নিট, রামমন্দির: কেন বিজেপির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মহুয়া মৈত্র?

বারুইপুর কাণ্ডে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের পালানোর অভিযোগ আনলেন মহুয়া মৈত্র। নিট প্রশ্নফাঁস ও রামমন্দির অনুদান তছরূপ নিয়েও কেন্দ্রকে নিশানা।

Share:

ব্যুরো নিউজ, ৭ জুলাই ২০২৬ : কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা থেকে শুরু করে নিট পরীক্ষা এবং রামমন্দিরের অনুদান তছরূপের অভিযোগ তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। মঙ্গলবার দিল্লিতে এক যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে মহুয়া সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বারুইপুরের ঘটনায় অভিযুক্তদের পালাতে শান্তনু মণ্ডল নামে এক বিজেপি নেতা সাহায্য করেছেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশের সময়মতো পদক্ষেপ না করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের পর বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা ঘটে গেলেও রাজ্য সরকারের ‘তাপ-উত্তাপহীনতা’ নিয়ে সরব হন তিনি। বিজেপির ‘ভয় আউট ভরসা ইন’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে মহুয়া বলেন, “আমাদের এত ভয় কেন?” তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিরাপত্তা দিয়ে নির্যাতিতার বাড়িতে নিয়ে গেলেও, সাত বারের সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হাউস অ্যারেস্ট’ করে রাখা হয়েছে। রামমন্দির ট্রাস্টের বিরুদ্ধে অনুদান তছরূপের অভিযোগ তুলে মহুয়া প্রশ্ন তোলেন, ট্রাস্টিদের পদত্যাগের পরেও কেন তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়নি। নিট প্রশ্নফাঁস রুখতে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে প্রশ্নপত্র নিয়ে যাওয়াকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

মহুয়া সরাসরি বলেন, “বিজেপি হিন্দুদের বিশ্বাস নিয়ে খেলা করছে।” অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরের পুলিশ সুপারের অফিসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পর জানিয়েছেন যে, পরিবার তদন্তে সন্তুষ্ট। তিনি গণপিটুনিতে নিহত যুবকের ঘটনাকেও নিন্দা করেছেন এবং বলেছেন যে নিহত ব্যক্তি নির্দোষ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিট। মহুয়ার এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।