ব্যুরো নিউজ, ২৬ জুন ২০২৬ : ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথমবার ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের ডাক দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে যখন ভাঙন তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই আগামী ২১ জুলাই ধর্মতলায় এক বিশাল সমাবেশের ডাক দিয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা তৃণমূলের জেলা সভাপতি কুণাল ঘোষের আহ্বানে রামমোহন লাইব্রেরিতে আয়োজিত ‘আমরা বেইমান নই’ শীর্ষক কর্মিসভায় ফোনের মাধ্যমে কর্মীদের উদ্দেশে প্রায় ১২ মিনিট বক্তব্য রাখেন মমতা।
ফোনে বক্তব্য রাখার সময় ২১ জুলাইয়ের জমায়েতের ডাক দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আশা করি ২১ জুলাই অনুমতি পাব। আমরা ওই একটা দিনই মিটিং করি। আমি সে দিন বিস্তারিত বলব। যদি পাঁচ জন কর্মীও থাকে, তাহলেও সেই মিটিংয়ে থাকব। আপনারা ওই দিন সমবেত হোন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর কলকাতার সভায় এই বার্তা দিলেও মমতা আসলে গোটা রাজ্যের সংগঠনের উদ্দেশ্যেই একুশের বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছেন। দলবদলু ও বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, “কেউ কেউ নিজেকে বাঁচাতে, পরিবার বাঁচাতে বেইমানি করেছে। মা আপনাকে মানুষ করল, আর আজ যখন মা অসুস্থ তখন তাকে দেখবেন না?” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি এখনও বলছি যাঁদের সুবুদ্ধি আছে, তাঁরা ফিরে আসুন। যাঁরা ভাবছেন এই ভাবে চলবেন, তাঁরা কিন্তু না ঘর কা, না ঘাট কা হয়েই থেকে যাবেন।”
তদন্তকারী সংস্থা ও আদালতের আইনি টানাপোড়েন নিয়ে নিজের পারিবারিক যন্ত্রণার কথাও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী। বিধানসভায় তৃণমূলের পরিষদীয় দল ভাঙার কারিগর, বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে আক্রমণ করে মমতা বলেন, “ও তো আসলে বিজেপি স্পনসর্ড সিপিএমের নেতা।” এর জবাবে ঋতব্রত পাল্টা তোপ দেগেছেন। এবারের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে তৃণমূল কর্মীদের উপস্থিতি কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার।








