ব্যুরো নিউজ, ৩ জুন ২০২৬ঃ রাজ্যে ‘নতুন তৃণমূল’-এর আত্মপ্রকাশের পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে তীব্র হচ্ছে সংঘাত। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই নতুন শিবির একদিকে যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী হিসেবে মান্যতা দিচ্ছে, তেমনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, “মমতা ভালো, অভিষেক খারাপ।” বিধানসভায় হারের পর দলের ভরাডুবির জন্য সিংহভাগ নেতা অভিষেককেই দায়ী করছেন বলে দাবি ঋতব্রতদের।
বুধবার সরকারিভাবে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করে এবং স্পিকারের বদান্যতায় ঋতব্রত বিরোধী দলনেতার আসন গ্রহণ করেন। তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূল পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। ঋতব্রত প্রশ্ন তোলেন, “সম্পর্ক থাকলে ২৬ দিন লুকিয়ে থাকতেন না। চোরের মতো মার খেতেন না।” তাঁদের হাবভাবে স্পষ্ট, অভিষেক দলে থাকলে তাঁরা নেই। রাজনৈতিক মহলের মতে, ‘নতুন তৃণমূল’-এর এই কৌশল আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উভয় সংকটে ফেলার চেষ্টা। তাঁরা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন, যেখানে মমতাকে হয় অভিষেক অথবা তাঁর প্রিয় দল, এই দু’টির মধ্যে একটিকে বেছে নিতে হবে। যদি মমতা ভাইপোর পাশে দাঁড়ান, তাহলে রাজ্যে বার্তা যাবে যে অপত্যস্নেহে অন্ধ মমতা নিজের দলকেও ছাড়তে পিছপা নন।
আবার যদি তিনি ঋতব্রতদের কথা মানেন, তাহলে অভিষেক রাজনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়বেন। এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থা যেন মহাভারতের পিতামহ ভীষ্মের মতো। চোখের সামনে সাজানো রাজ্যপাট উত্তরাধিকারের লড়াইয়ে তছনছ হওয়ার মুখে, অথচ কোনও পক্ষ নেওয়ার উপায় নেই। এখন তিনি নীরব দর্শকের মতো সবটা দেখবেন, নাকি এই মহারণে যোদ্ধা হিসেবে নেমে ভাইপোর পক্ষে ব্যাটিং করবেন, সেটাই দেখার। এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যায়, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।








